ভেজাল ওষুধ বিক্রি করলে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা :হাইকোর্ট

ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, এ ধরনের অপরাধে যাদের একবার ভ্রাম্যমাণ আদালত কারদণ্ড ও জরিমানা করেছে তারা যদি আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে এদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করতে হবে। যদি এদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয় তাহলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। এ সংক্রান্ত মামলার শুনানিকালে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ মন্তব্য করেন। 

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের বলেন, যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে দণ্ডিত হয়ে আবার একই অপরাধে  জড়িয়ে পড়েছেন তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে আদালত। ফলে যারা এ কাজে জড়িত থাকবেন তাদের আমরা হুঁশিয়ার করে দিতে চাই যেন তারা এ ধরনের অপরাধে আর জড়িয়ে না পড়েন।             এর আগে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দাখিলকৃত প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, গত দুই মাসে ১৩ হাজার ৫৯৩টি ফার্মেসি পরিদর্শন করা হয়। ঐ পরিদর্শনকালে ৫৭২টি মামলা করে মোবাইল কোর্ট। ১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও নকল, ভেজাল ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে দুটি ফার্মেসি সিলগালা করা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে ৩৪ কোটি ৭ লাখ ৬৯ হাজার ১৪৩ কোটি টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ।

শুনানিতে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির পক্ষে আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, চলমান অভিযানের সঙ্গে আমরা একমত। ভেজাল ও নকল ওষুধ যেন বাজারে না থাকে সেটা আমরাও চাই। শুনানি শেষে ১২ ডিসেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছে আদালত।