সময় কতো দ্রুত পালটে যায়! এইতো মাস ছয়েক আগেই টটেনহ্যাম হটস্পারকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে নিয়ে নায়ক বনে গিয়েছিলেন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। সেই আর্জেন্টাইন কোচই কিনা গত মঙ্গলবার দলের বাজে পারফরমেন্সের কারণে চাকরিচ্যুত হলেন! তার এ বরখাস্ত হওয়ায় কপাল খুলেছে আরেক কিংবদন্তি কোচ হোসে মরিনহোর। ২০২২-২৩ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত পর্তুগিজ এই কোচকে চুক্তিবদ্ধ করেছে লন্ডনের দলটি।
গেলো মৌসুমে দারুণ খেললেও চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন না হ্যারি কেইনরা। চলতি আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিরতিতে যাওয়ার আগে তিন জয় আর চারটি ড্রয়ে ১২ ম্যাচ থেকে মোটে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ১৪তম স্থানে ছিল গেলোবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ রানার্সআপরা। তাতেই চাপ ক্রমে বাড়ছিল পচেত্তিনোর ওপর। মঙ্গলবার রাতে আসে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। ক্লাবের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয় স্পার্সদের কোচ হিসেবে আর থাকছেন না এই আর্জেন্টাইন।
তার পদচ্যুতির পর থেকেই হোসে মরিনহো টটেনহ্যামের কোচ হয়ে আসার গুঞ্জন ছিল ইংলিশ গণমাধ্যমে। গুঞ্জনটা সত্যি হয় গতকাল দুপুরে। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয় তিন বছরের কিছু বেশি সময়ের জন্যে মরিনহোকেই কোচের দায়িত্ব দিয়েছে টটেনহ্যাম।
গেলো বছর ডিসেম্বরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হবার পর লন্ডনের বাড়িতেই দিন কাটাচ্ছিলেন পর্তুগিজ এই কোচ। মাঝে বেশ কিছু ক্লাব থেকে প্রস্তাব পেলেও মরিনহো জানিয়েছিলেন বড়ো কিছুর অপেক্ষায় আছেন তিনি। শেষমেশ বড়ো ক্লাবের দায়িত্বই পেলেন তিনি।
প্রতিক্রিয়ায় মরিনহো বলেন, ‘ক্লাবটার মূল দল এবং একাডেমির যে মান আছে তা আমাকে রোমাঞ্চিত করে। এই খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করার সুযোগটাই আমাকে দায়িত্বটা নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।’
পচেত্তিনোর অধীনে পাঁচেরও কিছু বেশি সময় খেলে কোনো শিরোপার দেখা পায়নি টটেনহ্যাম। অন্যদিকে মরিনহোর আছে তিনটি প্রিমিয়ার লিগ জয়ের অভিজ্ঞতা। চেলসির হয়ে দুটি ভিন্ন মেয়াদে এফএ কাপ জিতেছিলেন তিনি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে লিগ জয়ের অভিজ্ঞতা না থাকলেও ২০১৭-১৮ মৌসুমে দ্বিতীয় হয়েছিল মরিনহোর দল। এর আগে রেড ডেভিলদের জিতিয়েছিলেন একটি কারাবাও কাপ ও একটি ইউরোপা লিগ।
এছাড়াও পোর্তো, ইন্টার মিলান কিংবা রিয়াল মাদ্রিদ যেখানেই কোচিং করিয়েছেন মরিনহো, সাফল্য পিছুপিছু হেঁটেছে তার। এমন অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ কোচকে পেয়ে ক্লাবটির চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল লেভিও দারুণ উচ্ছ্বসিত ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচ এখন আমাদের। তার অনেক অভিজ্ঞতা আছে, দলকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন এবং একজন দারুণ কৌশলী কোচও। তিনি যেখানেই কোচিং করিয়েছেন সম্মান ও শিরোপা জিতেছেন। আমরা বিশ্বাস করি সে ড্রেসিংরুমে শক্তি ও বিশ্বাস নিয়ে আসবেন।