দাকোপে অতিথি পাখি নিধনে শিকারিরা তত্পর!

খুলনার দাকোপের বিভিন্ন এলাকায় অতিথি পাখি নিধনে স্থানীয় অসাধু শিকারিরা বেশ তত্পর হয়ে উঠেছে। এসব পাখি আবার অগ্রিম অর্ডার নেওয়া খরিদ্দারদের কাছে বিক্রি করছেন শিকারিরা।

বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও শীতের শুরুতে সুদূর হিমালয় ও সাইবেরিয়াসহ শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ উপজেলা ও তার আশেপাশের খালে-বিলে আসছে। স্থানীয় অসাধু শিকারিরা আইনের তোয়াক্কা না করে মাঠে নেমে মেতে উঠেছে পাখি নিধনে। নভেম্বর মাসের শুরু থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে অসংখ্য অতিথি পাখি আমাদের দেশে আসে আবার শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে গেলে তারা আগের স্থানে ফিরে যায়। এদের মধ্যে বালি হাঁস, জলপিপি, কোম্বডাক, সরালি কাস্তে চাড়া, পাতাড়ি হাঁস, কাদা খোঁচা, ডংকুর, হুরহুর, খয়রা, সোনা রিজিয়া অন্যতম।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ৮০র দশকে এদেশে আসা অতিথি পাখির সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫০ প্রজাতির। কিন্তু বর্তমানে এর সংখ্যা নেমে ৭০ থেকে ৮০-তে চলে এসেছে। প্রচণ্ড শীতের প্রকোপ থেকে আত্মরক্ষার্থে হাজার হাজার মাইল পথ উড়ে চলে আসে এ অঞ্চলে। তাই শীতের পাখির আগমনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এবারও বেশ তত্পর হয়ে উঠেছে অসাধু শিকারি দল। এসব শিকারি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের খাল, বিল, নদী ও মাঠ থেকে সুকৌশলে অতিথি পাখি নিধন করে এলাকায় এনে অগ্রিম অর্ডার নেওয়া নির্দিষ্ট ক্রেতাকে পৌঁছানোসহ দেদারসে বিক্রি করে চলেছে।

জানা গেছে, এসব পাখি শিকারি নাইলনের সুতা দিয়ে ছোটো-বড়ো ফাঁদ তৈরি করে পাখি চলার পথে পেতে রাখে। রাতেরবেলায় পাখিরা যখন উড়ে বেড়ায় তখন এই ফাঁদে শত শত পাখি আটকা পড়ে। এছাড়াও চোখে আলো ফেলে, কেঁচো দিয়ে বঁড়শি পেতে, কোঁচ মেরে ও কারেন্ট জাল পেতে এসব পাখি শিকার করে থাকে। অসাধু এসব শিকারি এবারও অভিনব কৌশল বিশেষ করে রাতে ধানখেতে বসে পাখির ডাকের সঙ্গে সুর  মেলানো এক ধরনের বাঁশি বাজিয়ে উড়ন্ত পাখিদের নিচে নামিয়ে অতি সহজে শিকার করছে। প্রশাসন তত্পর হলে এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে এসব পাখি শিকার বন্ধ হবে বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিকারি জানান, প্রতি রাতে ধানখেতে বসে পাখির ডাকের সঙ্গে সুর  মেলানো বাঁশি বাজিয়ে উড়ন্ত পাখিদের নিচে নামিয়ে ফাঁদে ফেলে অতি সহজে শিকার করছে। এসব পাখি আবার অগ্রিম অর্ডার নেওয়া খরিদ্দারদের কাছে পাখি প্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা এবং বিভিন্ন দরে বিক্রি করছে শিকারিরা। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পরিতোষ কুমার রায় বলেন, তিনিও পাখি নিধনের কথা এলাকার লোকজনের কাছে শুনেছেন। শিকারিদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।