দেশে প্রতি বছর ১০ হাজার মানুষের কিডনি পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়। এটা বড়ো কোনো অপারেশন নয়। অথচ আইনি জটিলতার কারণে বর্তমানে দেশে কেবল ১৫০ থেকে ২০০ রোগীর কিডনি পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, কেউ যদি তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করার অধিকার রাখে, তাহলে সুস্থ সবল মানুষের দুটো কিডনি থেকে একটি দান বা বিক্রি করার অধিকার কেন রাখবে না। এজন্য কিডনিদাতা ও গ্রহীতার কোনো সমস্যা হয় না। তবে ২০১৮ সালের সংশোধিত ‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-১৯৯৯’ এ কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়ে কোনো সুব্যবস্থা নেই।
বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে আয়োজিত ‘২০১৮ সালের সংশোধিত মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯ এর অসম্পূর্ণতা ও সমস্যা সম্পর্কে অবহিতকরণ’ সভায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এসব কথা বলেন। পরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন তিনি।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ কিডনি প্রতিস্থাপন করে। কিডনি প্রতিস্থাপনের বিপরীতে যে চিকিত্সাটি রয়েছে সেটা হলো ডায়ালাইসিস, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এতে একজন ব্যক্তির প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। অথচ আমাদের দেশে কিডনি রোগে সবচেয়ে আক্রান্ত হয় দরিদ্র মানুষেরা, যাদের এত টাকা ব্যয় করার সামর্থ্য নেই। এক্ষেত্রে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে খরচ হয় মাত্র ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা।
তিনি বলেন, কিডনি প্রতিস্থাপনের পর এক বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে ২ হাজার টাকার ওষুধের প্রয়োজন হয়। আর যদি ১৯৮২ সালের ওষুধ নীতি বাস্তবায়ন করা হতো, তাহলে ওষুধের দাম পড়তো মাত্র ৫০০ টাকা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কিডনিদানে আসলে আমাদের দেশে বাধা ধর্মীয় গোঁড়ামি। যে কারণে মৃত মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেওয়া সম্ভব হয় না। যদিও জীবিতদের কিডনি বেশি কার্যকর। কিন্তু ইরানের মতো মুসলিম দেশে কিন্তু সবচেয়ে বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন হয়। বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ কিডনি প্রতিস্থাপন করে। ৯৫ শতাংশ কিডনি প্রতিস্থাপন সফল হয়ে থাকে। তিনি বলেন, দেশে মানুষের জীবনকাল বেড়েছে অথচ দাতা ও গ্রহীতার বয়স ৬৫ থেকে ৭০ বছরে সীমিত করা হয়েছে।
আগামী বছর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাদের এখানে কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু হলে গরিবদের খরচ হবে দেড় লাখ টাকা এবং ধনীদের আড়াই লাখ টাকা।