আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি দুর্ভোগ এবং গুজবের রাজনীতি করে। তারা পেঁয়াজ, চাল ও লবণ নিয়ে রাজনীতি করেছে। এখন আবার সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে এখন আন্দোলনের ইস্যু খুঁজছে। গতকাল বুধবার দুপুরে নোয়াখালী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, নেতিবাচক রাজনীতির জন্য বিএনপি তাদের সব ঘাঁটি একে একে হারিয়ে ফেলছে। তারা আন্দোলনে ব্যর্থ, তারা নির্বাচনেও ব্যর্থ। তাদের আছে কি? তাদের আছে প্রেসব্রিফিং, তাদের আছে গলাবাজি, তাদের আছে মিথ্যাচার, তাদের আছে ষড়যন্ত্র। আমরা জানি ষড়যন্ত্র কোথা থেকে আসে? তারা এখন ইস্যু খুঁজে বেড়ায়, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি—সেখান থেকে ইস্যু। কি লাভ হয়েছে? পেঁয়াজের আমদানি হচ্ছে এবং খেতের পেঁয়াজ কিছুদিনের মধ্যেই বাজারে আসবে। কাজেই ঐ সংকট কৃত্রিম। কিছু লোক অস্বাভাবিকভাবে সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজের পর লবণ। দেশে লবণের প্রয়োজন দেড় লাখ টন। সরকারের কাছেই মজুত আছে ৬ লাখ টন। কিন্তু হঠাত্ ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এরপর জানা গেল সব ভুয়া।
তিনি আরো বলেন, সর্বশেষ পরিবহন শ্রমিকরা তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে যে কর্মবিরতি করছে, সেখানেও বিএনপি আইনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে যদি কোনো ইস্যু খুঁজে পাওয়া যায়। উসকানি দিয়ে লাভ হবে না। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আমাদের টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক করছেন। আমি আশা করি এ ব্যাপারে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।
তিনি বলেন, আমরা সড়কে শৃঙ্খলার জন্য এ আইন করেছি। কাউকে জেল-জরিমানা করতে নয়, শাস্তি দিতে নয়। সড়ক পরিবহনের শৃঙ্খলা চাই। এ শৃঙ্খলার জন্য আইন মেনে চলবেন—এটাই আমি সবার কাছে আশা করব। আমি মালিক-শ্রমিক সবাইকে আবারও অনুরোধ করব—প্লিজ আপনারা জনগণকে শাস্তি দেবেন না, জনগণকে দুর্ভোগে ফেলবেন না। আমি আশা করি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা শেষে তারা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবেন, কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেবেন—এটাই আমি তাদের কাছে আশা করছি।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম সেলিম। এতে অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামিম, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসিম কুমার উকিল, সাবেক মন্ত্রী মির্জা আজম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি। বক্তব্য রাখেন এইচ এম ইব্রাহিম এমপি, মামুনুর রশিদ কিরন এমপি, মোর্শেদ আলম এমপি ও আয়েশা ফেরদাউস এমপি প্রমুখ।
সম্মেলন শেষে ওবায়দুল কাদের পুনরায় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে খায়রুল আনম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেন।