দুর্নীতিবাজদের সরিয়ে মুনাফায় বিমান

শুদ্ধি অভিযানের প্রক্রিয়ায় এবার বিমানের পরিচালক (বিক্রয় ও বিপণন) আশরাফুল আলমকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক বলেছেন, টিকিট জালিয়াতির মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই শাস্তি।

এর আগেই পাইলট নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে বিমানের এমডি মোসাদ্দিক হোসেনকে অপসারণ করা হয়। আর কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক আমিনুর রহমান হাসিবকে অপসারণ করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ভূমি অধিগ্রহণের টাকা যথাসময়ে জেলা প্রশাসকের অধীনে না দেওয়ায় সরকারের প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত মার্চ ও এপ্রিলে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব যৌথভাবে গোপন নিরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন—বিমানে টিকিট বিক্রি নিয়ে কারসাজি চলছে। এ ঘটনা উদ্ঘাটনে মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী আশরাফুল আলম বিমানের টিকিট বিক্রির স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি অকার্যকর করে রেখে ম্যানুয়ালি টিকিট বিক্রির কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। ফলে বিমানে আসন সম্পূর্ণ দেখালেও প্রকৃতপক্ষে আসন খালি থেকে যায়। দীর্ঘদিনের এই প্রক্রিয়া তিনি চালান সংস্থাটির বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকালে।

তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর মাসে ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে তার রেফারেন্স/এজেন্ট আইডি ব্যবহার করে যোগসাজশে গ্রুপ বুকিং বা ওভার বুকিংয়ের মাধ্যমে আসন অবরুদ্ধ করে আসনসংকট তৈরি করা হয়। গ্রাহকদের নির্ধারিত এজেন্টদের কাছ থেকে বাড়তি মূল্যে টিকিট কিনতে বাধ্য করা হয়। বলা হচ্ছে—আলোচ্য সময়ে ঐ রুটে ১২ হাজার ১১৮টি টিকিট গ্রুপ বুকিং হিসাবে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্টদের বরাদ্দ করা হয় যার মধ্যে ৫ হাজার ৮৬২টি বাতিল এবং ২ হাজার ১০৭টি অন্যান্য পিএনআরে বিভক্ত করা হয়। এতে গ্রাহকরা যেমন ক্ষতির শিকার হন তেমনি বিমানও রাজস্ব হারায়।

গত বছরের নভেম্বর মাসে ঢাকা-কুয়ালালামপুর সেক্টরে পরিচালিত মোট ফ্লাইটসংখ্যা থেকে দেখা যায়, মোট আসনসংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৮২৪টি। এরমধ্যে ফাঁকা আসনসংখ্যা দেখানো হয় ৩ হাজার ১টি।

এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরো প্রমাণিত অভিযোগের মধ্যে একটি              হচ্ছে—গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস ভিত্তিক রিজারভেশন ও টিকিট বিক্রয় এবং বিপণনসংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফরম ২০১৭ সালে চালু করা হলেও জেলা বিক্রয় অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসত্ উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। এতে অন্যান্য এয়ারলাইন্স লাভবান হয় এবং আলোচ্য কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ বিমান। একইভাবে টিকিট বিক্রয়ে চালু করা আরএমএস অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। এতে বিমানের বিপুল আর্থিক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।

বিষয়টি তদন্তের পর তা মন্ত্রণালয়ের সভায় উত্থাপন করা হয়। মন্ত্রণালয় ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরে প্রস্তাবটি বিমানের বোর্ড সভায় উত্থাপন করা হলে বোর্ড তা অনুমোদন করে। এখন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

সচিব মহিবুল হক গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী বিমানকে পুরোপুরি সংস্কার না করা পর্যন্ত দুর্নীতিবাজদের বের করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আশরাফুল আলমকে গত জুনে কর্ম থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। সে সময় বিমান লোকসান কাটিয়ে ২৭২ কোটি টাকা লাভ করে। মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত লাভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭২ কোটি টাকা।