এসএ গেমস ফুটবল অনুশীলনের প্রথম দিনেই ঝামেলায় পড়েছেন দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে। অনুশীলনে ডাকা হয়েছিল ২০ ফুটবলারকে। কিন্তু সবাই আসেননি। প্রথম কথা হচ্ছে অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া ছিলেন অনুপস্থিত। তিনি ডেনমার্ক গিয়েছেন। আর তার চেয়েও বড়ো কথা হচ্ছে—ডাক পাওয়া ২০ ফুটবলারের মধ্যে ৮ ফুটবলার অনুশীলনে যাবেন না। জাতীয় দলের ম্যানেজার সত্যজিত দাস রুপু কাল সন্ধ্যায় ছিলেন বাফুফেতে। তিনি জানিয়েছেন জামাল ভুঁইয়াকে দুই দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। আর বসুন্ধরার ৮ ফুটবলার ক্যাম্পে আসেননি। ক্লাব চিঠি দিয়ে জানিয়েছে ক্যাম্পে আসবে না।’ কেন আসবে না সেটা জানেন না ম্যানেজার। এই আসা না আসা নিয়েই কোচ গিয়েছিলেন বাফুফেতে কথা বলতে। আর যারা অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন তারা মাঠে অনুশীলন না করলেও জিম করেছেন বলে জানিয়েছেন ম্যানেজার। বসুন্ধরার খেলোয়াড়রা হলেন—গোলকিপার জিকো, বিশ্বনাথ, ইয়াসিন খান, সুশান্ত ত্রিপুরা, বিপলু, রবিউল, সুফিল এবং ইব্রাহিম।
বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান জানিয়েছেন তারা মঙ্গলবার বাফুফেতে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে ৩০ নভেম্বরের আগে কোনো খেলোয়াড় তারা ছাড়তে পারবে না। বুধবার বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ কথা বলেছেন বসুন্ধরার সভাপতির সঙ্গে। গতকাল বাফুফের সহসভাপতি ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির কর্তা তাবিথ আউয়াল কথা বলেছেন বসুন্ধরার সভাপতির সঙ্গে। কিন্তু বসুন্ধরা তাদের নিজেদের সিদ্ধান্তের বাইরে আসতে রাজি না। প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা পেশাদার একটি ফুটবল দল। সব কিছুতেই তারা পেশাদারিত্বটা ধরে রেখে এগিয়ে যেতে চায়। সেই হিসাব করে ক্লাব সভাপতি কাল বললেন, ‘আমাদের প্রি-সিজ ট্রেনিং রয়েছে। আমরা সেটা করতে পারছি না। সেপ্টেম্বরে প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সব খেলোয়াড় মিলে তিন দিনও অনুশীলন করতে পারেনি।’ এই কর্মকর্তা আফসোস করে বললেন, ‘জাতীয় দলের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে, দেশের ফুটবলের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে আমরা ভারতে প্রস্তুতি ম্যাচের সুযোগ পেয়েও যাইনি। আমাদের প্রস্তুতির পরিকল্পনাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছিলাম, শুধু জাতীয় দল ভালো রেজাল্ট পাবে এই আশায়। যাই হোক এসএ গেমস যখন শেষ হয়ে আসবে তখন ফেডারেশন কাপও শুরু হয়ে যাবে। আমরা এত বাজেট ব্যয় করে দল গড়লাম অথচ অনুশীলন করতে পারবে না, তা কি করে হয়।’ তিনি বলেন, ‘বাফুফেকে জানিয়েছি ৩০ নভেম্বর খেলোয়াড়রা ক্যাম্পে যাবে। এই কর্মকর্তার আক্ষেপ আরো আছে। বললেন, ‘জাতীয় দলে আমাদের দলের ৯/১০ জন থাকেন অথচ একাদশে সুযোগ পান এক দুই জন।’