ব্রিটেনে নির্বাচনের সপ্তাহ তিনেক বাকি থাকিতে প্রধান দুই প্রার্থী, প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন পার্টির নেতা বরিস জনসন এবং বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনের মধ্যে প্রথম দফা টেলিভিশন বিতর্ক অনুষ্ঠিত হইয়াছে গত মঙ্গলবার। আইটিভি আয়োজিত এই বিতর্কে শেষ বিচারে এই দুই জনের কেহ জয়ী বা পরাজিত হইয়াছেন বলিয়া মনে করিতেছেন না অনেক বিশ্লেষক।
বিতর্কে জনসন কেবল ব্রেক্সিট প্রসঙ্গটিকেই আলোচ্য হিসেবে রাখিতে সচেষ্ট ছিলেন। যেইভাবেই হউক না কেন, ব্রেক্সিট সম্পন্ন করিবার জন্য তিনিই যে একমাত্র সক্ষম রাজনীতিক তাহাই পুরো ব্রিটেন জুড়িয়া প্রমাণে সচেষ্ট ছিলেন জনসন। পক্ষান্তরে কেবল ব্রেক্সিট নহে, অন্য কয়েকটি অভ্যন্তরীণ প্রসঙ্গকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণের চেষ্টা করিয়াছেন করবিন। বিশেষ করিয়া ব্রিটেনের জাতীয় গর্ব ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) লইয়া কনজারভেটিভদের নানা প্রকার ঘোরপ্যাঁচের সমালোচনা করেন তিনি। উল্লেখ্য, এনএইচএসের কিছু কিছু সেবা আমেরিকান কিছু প্রাইভেট কোম্পানির নিকট ছাড়িয়া দেওয়ার ব্যাপারে কনজারভেটিভদের মধ্যে চিন্তাভাবনা চলিতেছে বলিয়া খবর ছড়াইয়াছে। লেবার পার্টি এই ধরনের যে কোনো উদ্যোগের তীব্র বিরোধী। জনগণের মধ্যেও এনএইচএস বেসরকারিকরণের কোনো খবর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করিবে বলিয়াও মনে করা হয়। ব্রেক্সিট লইয়া তীব্র জাতীয়তাবাদী জোয়ার সৃষ্টি করিয়া নির্বাচন পাড়ি দিতে চাহিতেছেন জনসন। এমতাবস্থায় এনএইচএসের মতো প্রসঙ্গ সামনে আনিয়া কূল রক্ষা করিতে চাহিতেছেন করবিন। এনএইচএসের বাহিরে জলবায়ু, ক্ষমতা ও সম্পদের বণ্টনের মতো প্রসঙ্গগুলিও সামনে আনিতে চাহিতেছেন করবিন। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক জনমতসমূহের সকলগুলিতেই লেবার অপেক্ষা কনজারভেটিভ এবং করবিন অপেক্ষা জনসন কিছুটা আগাইয়া রহিয়াছে। সামনের সপ্তাহগুলিতে পরিস্থিতি কতটা পালটাইবে অথবা আদৌ পালটাইবে কি না, তাহা এখন অবধি স্পষ্ট নহে।
বস্তুত, জনসন ও করবিন হইতেছেন সম্পূর্ণ দুই ধরনের ব্যক্তিত্ব। এই কারণে তাহাদের নেতৃত্বের ধরনও সম্পূর্ণ ভিন্ন। করবিন রাজনীতিতে বস্তুনিষ্ঠতাকে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। পক্ষান্তরে, জনসনের অনেক বক্তব্যের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা লইয়া তাহার দলের অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন আছে। তিনি ব্রিটিশ অভিজাততন্ত্রের সাক্ষাত্ প্রতিনিধি এবং ব্রিটিশ স্বাতন্ত্র্যের গৌরব দেখাইয়া ব্রেক্সিটে আগ্রহী। এইদিকে, করবিন সর্বাপেক্ষা অস্বস্তিতে আছেন ব্রেক্সিট লইয়া। তাহার দল জনমত মাথায় রাখিয়া ব্রেক্সিটের কথা বলিলেও কনজারভেটিভরা ব্রেক্সিট প্রসঙ্গে দোদুল্যতার জন্য লেবারকে ভীষণভাবে কোণঠাসা করিয়া ফেলিতেছে। বস্তুত পরিস্থিতির চাপে ব্রেক্সিটের কথা বলিলেও, লেবার পার্টি আদতে একটি ইউরোপপন্থি দল। এই টানাপোড়েনের কারণে লেবার শেষাবধি এইবারের নির্বাচনে ধরাশায়ী হইয়া পড়ে কি না, তাহা লইয়া দুর্ভাবনা করিতেছেন লেবারপন্থি অনেক বিশ্লেষক। গত কয়েক বত্সরে উগ্র জাতীয়তাবাদীরা ইউরোপের অন্য অনেক দেশের ন্যায় ব্রিটেনেও যেইভাবে শক্তি সঞ্চয় করিয়াছে তাহাতে এই দুর্ভাবনাকে অমূলক বলিয়া মনে হয় না।