আইনের শাসনের অনুপস্থিতি একটি দেশকে ব্যর্থ করে দিতে পারে জানা সত্ত্বেও আমাদের জনগণের মধ্যে আইন অমান্য করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এ থেকে বের হওয়ার উপায় কী? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে। ই-মেইল এবং টেলিফোনে পাঠকের দেওয়া প্রতিক্রিয়া আজ প্রকাশ করা হলো
আইন এবং স্বাধীনতা দুটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। স্রষ্টার সৃষ্টি প্রত্যেকেরই স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। স্বাধীনতা ঘরের ছাদ বা চাল, আইন খুঁটি বা দেওয়াল। এই ছাদ খুঁটি বা দেওয়ালের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। খুঁটি বা দেওয়াল আইন ছাদ বা চালা এই আইনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। একজন আইন লঙ্ঘন করলে অপরজনের স্বাধীনতা লঙ্ঘন হয়। উদাহরণস্বরূপ—আমার একটি বাড়ি আছে। আমার বাড়িতে এমন কোনো কার্যকলাপ করতে পারব না যাতে প্রতিবেশীদের অসুবিধা ও স্বাধীনতার লঙ্ঘন হয়। আমি রাস্তায় স্বাধীনভাবে চলাচল করব, আমার স্বাধীনতা নিয়ে। তার মানে এই নয় যে, আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করব। যারা যানবাহনে চলাচল করে তারাও এমনভাবে যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করবে না। শুধু মানুষই নয়, যে কোনো প্রাণিকুল যেন বেপরোয়া গাড়ি চলার কারণে দুর্ঘটনায় পড়ে নিহত না হয়। আইন সৃষ্টিকুলের স্বাধীনতার রক্ষাকবচ।
খন্দকার কামরুজ্জামান
উত্তর পীরেরবাগ, মিরপুর, ঢাকা।
সর্বক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ার কারণেই আমাদের দেশের জনগণের মধ্যে আইন অমান্য করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আইন অমান্য করার ফলে মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমে যাচ্ছে। তাই আইন পালন করতে ইচ্ছের অভাব দেখা দিচ্ছে। আইন অমান্য করার ফলে যে গুরু দণ্ড যোগ করতে হয় সেটা বেমালুম ভুলতে বসেছে জনগণ। এ থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ হচ্ছে সবক্ষেত্রে আইনের শাসনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে তা জনগণের মধ্যে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা।
মো. আবুল কালাম আজাদ
সর্দারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ
পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বর্তমানে আমাদের দেশের জনসাধারণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় আইন মানার ব্যাপারে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। ফলে দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে। কাজেই সব দিক বিচার-বিবেচনা করে জনসাধারণের জন্য গ্রহণযোগ্য যুগোপযোগী আইন তৈরি করা উচিত।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)
বি-বাড়ীয়া সদর, বি-বাড়ীয়া
সাংবিধানিক আইন সবার জন্যই সমান। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া দেশের প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। আর এই আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা মানেই দেশের প্রতি অবহেলা করা। বিশৃঙ্খলা করা অনৈতিকতা চর্চা করা, অনিয়ম করা, অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি করা ইত্যাদি একটি স্বাধীন দেশের জন্য অভিশাপ। সরকার ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগে ধৈর্যশীল স্বাধীন সার্বভৌমত্বের মর্যাদা রক্ষায় আন্তরিকভাবে এগিয়ে এলেই সাফল্য সম্ভব। এই প্রীতিচর্চায় আমাদের সবাইকে অগ্রগামী হওয়াও জরুরি। মোদ্দাকথা, আইনের প্রয়োগ শত ভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হতে হবে।
মো. আব্দুর রাজ্জাক নাছিম
নির্বাহী পরিচালক,
চান্দাইকোনা, সিরাজগঞ্জ
আইন দিয়ে ভয় দেখানো যায় কিন্তু মানুষকে সঠিক নিয়মে আনা যায় না, মৌলিক চাহিদাগুলো যখন পূরণ হয় তখন মানুষ এমনিতেই আইন মানে। আমাদের মতো পৃথিবীর উন্নত দেশেও আইন আছে কিন্তু মানুষ এমনিতেই তা মানে, কারণ জানে একই আইনে দুই ধরনের বিচার হয় না। পলিটিক্যাল পাওয়ার মানুষকে অন্ধ করে দেয়, শিক্ষা আর সুশিক্ষা এক নয়। সচেতনতা মানুষকে উন্নত করে, যেখানে শিক্ষার প্রয়োজন পরে না, একজনকে ভয় দেখিয়ে কাজ আদায় করা আর ভালোবেসে কাজ আদায় করা এক নয়। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, আদা সরকারি, ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক, নৈতিকতা শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া উচিত, যা একদিনে হয়তো সম্ভব নয় তবে শুরু করলে কাছাকাছি সময় ঠিক হয়ে যাবে।
মো. ফিরোজ আহম্মেদ
মিরপুর সেকশন-৬, ঢাকা।
আইনের শাসনের জায়গাটি আমাদের দেশে বরাবরই দুর্বল ছিল—এটা বললে বেশি ভুল হবে না মনে হচ্ছে। আইনের শাসন এখনো যে খুব একটা উন্নতি সাধন করেছে বা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, তা বলাটা কষ্টকর। কেননা আইনের শাসনের বহুমাত্রিকতা আছে। আমরা জানি, খুব সাধারণভাবে একটি কথা প্রচলিত আছে, তা হচ্ছে আমাদের এখনকার বিচারব্যবস্থা দরিদ্রবান্ধব নয়। দরিদ্র মানুষ মনে করেন আদালতপাড়া তার জন্য নিষিদ্ধ। কেননা তিনি সেখানে গিয়ে কিছু পাবেন না। বিচারব্যবস্থাটা যেন ধনীর দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এ কথাগুলো সমাজে প্রচলিত থাকার অর্থই হচ্ছে দেশে আইনের শাসন অনুপস্থিত রয়েছে। আমরা এটাও লক্ষ করি, অনেক ক্ষেত্রে যেখানে ন্যায়বিচারের স্বার্থেই আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার, সেখানে অনেক সময় তদন্ত দীর্ঘসূত্রতায় আবদ্ধ হয়ে পড়ে। তবে আমাদের সবার প্রত্যাশা, সাধারণ জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক।
অমিত বণিক
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক
উত্তরা, ঢাকা।
একটি রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানে নাগরিক, দাপ্তরিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সবাইকে একটি প্ল্যাটফরমে আনার জন্য আইন প্রণীত হয়। আইনটি কার্যকরের আগে বহুল প্রচারের মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করে ক্রমান্বয়ে আইনটি পালনে বাধ্য বাধকতা আনা প্রয়োজন। অতঃপর আইন লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে শাস্তি কার্যকরের কঠোর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। তাহলে জনগণ আইন পালনে অভ্যস্ত হয়ে যাবে, কিন্তু কাউকে ধরলাম, কাউকে ছেড়ে দিলাম এমন হলে কিছুদিন পর আইনটি ‘যে লাউ সেই কদু’ রূপ নেবে। দুঃখের বিষয় আমাদের দেশে অনেক আইন আছে কিন্তু আইনের প্রয়োগও নেই আবার পালনের বাধ্যবাধকতা নেই। যার কারণে অনিয়মটাই মানুষের কাছে নিয়মে পরিণত হয়েছে।
মোহাম্মদ ইসলাম
পথেরখোলা
চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা
আইনের শাসনের অনুপস্থিতি একটি দেশকে ব্যর্থ করে দিতে পারে—এ কথাটি যথাযথ। আইন জানা সত্ত্বেও তা পালন না করা সত্যি বড়ো অপরাধ। বিশ্বের সব দেশেই আইনের প্রতি সবাই অনেক শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু আমাদের দেশের জনগণের মধ্যে আইন অমান্য করার মানসিকতা প্রবণতা অনেক বেশি। তাই আসুন, আমরা ২০১৮-এর ২০১৯-এর নভেম্বর মাসে কার্যকর আইনকে শ্রদ্ধা জানাই। আইনের প্রতি আমরা আনুগত্য দেখাই। এতে করে দেশ ও দশের ভাবমূর্তি সারা বিশ্বের কাছে মুখ উজ্জ্বল করবে এটাই প্রত্যাশা।
মো. মিজানুর রহমান প্রধান
৫নং বাউশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
থানা-গজারিয়া
জেলা-মুন্সীগঞ্জ
আইন একটি দেশের জন্য আলোকবর্তিকাস্বরূপ, আলোকবর্তিকার আলোতে যেমন চারিদিক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, ঠিক তেমনি একটি দেশের সবাই যদি আইনকানুন কিংবা আইনের শাসন মেনে চলে তাহলে সে দেশ সাফল্যের চূড়ায় উন্নীত হয়, অন্যথায় সে দেশ আলোকবর্তিকাহীন অন্ধকার ব্যর্থ দেশে পরিণত হয়।
আইন শাসনের উত্তম ব্যবহার একটি দেশকে সমৃদ্ধশালী গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তবুও কখনো কখনো দেশের জনগণ আইন মানতে আগ্রহ প্রকাশ করে না বরং আইন ভাঙতে আগ্রহী হতে দেখা যায়। এ আইন ভাঙার আগ্রহ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সকলকে আইনের প্রতি সচেতন হতে হবে, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। যদি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শ্রদ্ধাশীল হওয়া যায় তাহলে আইন না মানার প্রবণতা থেকে অবশ্যই এক দিন বেরিয়ে আশা সম্ভবপর হবে বলে আশা করি।
ফারজানা বিনতে মুরাদ ঈরা
মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর
একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রে জনগণের কল্যাণের কথা মাথায় রেখেই পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন করে থাকেন। যে আইনে একদিকে সর্বজনীন ও অন্যদিকে সার্বজনীন বিষয়টি সমানভাবে প্রতিধ্বনিত হয়। যেহেতু আইন সৃষ্টির প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য দেশ ও জনগণ, সেহেতু সৃষ্ট আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইনের শাসন বাস্তবায়নের মহান দায়িত্বও জনগণের ওপরই বর্তায়। আইনগুলো জনগণের কাছে পবিত্র আমানতও বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা জনগণ আইনের প্রতি আশানুরূপ শ্রদ্ধাশীল তো নই বরং ক্ষেত্রবিশেষ আইন লঙ্ঘন করে আইনকে নিজ হাতে তুলে নিচ্ছি। এভাবে আইনের শাসন শূন্যতায় রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতার পরিবর্তে নৈরাজ্য জেঁকে বসে। যার জ্বলন্ত উদাহরণ হলো আমাদের ‘সড়ক আইন’ অমান্যের নিত্যকার দৃশ্যাবলি। জনগণের দ্বারা আইনের শাসন অশ্রদ্ধার সঙ্গে ভূলুণ্ঠিত হলে সড়কে যেমন বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, একইভাবে জনগণের দ্বারা আইন অমান্যের দরুন রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নৈরাজ্য দেখা দেওয়া স্বাভাবিক।
তৌহিদ বিল্লাহ
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
নরসিংদী সরকারি কলেজ
আমাদের দেশের জনগণের মধ্যে আইন অমান্য করার প্রবণতা দেখা যায়। কারণ এ দেশে আইন আছে কিন্তু আইনের প্রয়োগ নেই। এখানে কেউ আইন অমান্য করলে যে কোনো ভাবে পার পেয়ে যেতে পারে। এটাই তাকে পরবর্তীতে আবার আইন অমান্য করতে উদ্বুদ্ধ করে। আমি বিদেশে দেখেছি লোকেরা কত সতর্কতার সঙ্গে আইন মান্য করে। আমি তাদের জিজ্ঞেস করে জেনেছি ওখানে আইন অমান্য করার শাস্তি অত্যন্ত কঠিন। আমাদের দেশেও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করলে লোকে আইন মানতে বাধ্য হবে।
জয়নাব চামেলি
গঙ্গানগর, রূপগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ
আইন প্রয়োগের অনুপস্থিতির নৈরাজ্য এবং অরাজকতা সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। দেশের অধিকাংশ লোক আইন অমান্য এবং আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যান। দেশের মানুষ সচেতন ও সতর্ক হলে এবং আইনবিষয়ক পুরোপুরি জ্ঞান লাভ করলে জনগণই যারা আইন অমান্য করে এবং আইনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সক্ষম হবেন। এজন্য প্রতিটি আইনের প্রতি জনগণ পুরোপুরিভাবে সতর্ক হতে পারলেই আইনের সঠিক প্রয়োগ হয়েছে কি-না জনগণ বুঝতে এবং তাদের মতামত ব্যক্ত করতে পারবেন।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ।
দেশের সড়ক পরিবহন আইন জনদাবি ছিল। দীর্ঘদিনের এ সংশয় এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে বলা যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে দৃঢ় ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সোহাগ
ভাগলপুর লেন
হাজারীবাগ, ঢাকা।