সারা দেশব্যাপী ১৪ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দশমবারের মতো আয়কর মেলা। রাজস্ব বোর্ড এবার ঘাষেণা দিয়েছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জাতীয়ভাবে সেরা করদাতাদের ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা দেওয়া হবে। করদাতাদের সহজে কর দেওয়ার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবারও মেলায় শিওরক্যাশ, রকেট, ইউপে, বিকাশের মতো মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ই-পেমেন্ট সেবাগুলো আগের মতোই অব্যাহত ছিল। করদাতারা যাতে উত্সবমুখর পরিবেশে সহজেই আয়কর বিবরণী দাখিল ও কর পরিশাধ করতে পারেন। করদাতাদের সুবিধার্থে এবারের মেলায় করসংক্রান্ত সকল তথ্যসংবলিত একটি চমত্কার ওয়েবসাইট চালু ছিল।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর আহরণের জন্য এত অণুপ্রেরণামূলক ও স্বচ্ছ পরিবেশ আয়োজনের পরও কর ফাঁকিবাজরা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে কর ফাঁকি দিয়েই যাচ্ছে। দেশে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে সামর্থ্যবান আছে ৪ কোটি, যাদের মধ্যে আয়কর দিচ্ছে খুবই কমসংখ্যক। চাকরিজীবী আর গুটিকয়েক ব্যবসায়ী ছাড়া বড়ো বড়ো রাঘব বোয়ালরাই আয়কর ফাঁকির নিপুণ সম্রাট।
চাঁদপুরের জর্দা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কাউছ মিয়া যদি প্রতি বছর সেরা করদাতা হতে পারেন, দেশে তাঁর চেয়ে অনেক বড়ো মাপের ব্যবসায়ীর অভাব নেই—যারা প্রতিনিয়ত কর ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে। কাউছ মিয়ার সমান অথবা ছোট ব্যবসায়ীরা করের আওতায় থাকলে কর ফাঁকির চেষ্টা না করাটা ভালো; যারা গ্রাম-গঞ্জের পান দোকান থেকে শুরু করে শহরের বিশিষ্ট শিল্পপতি রয়েছেন, প্রত্যেকের উচিত কর সমপর্কে সচেতন থাকা।
আয়করের আওতায় আমরা যারা আছি, সবাই স্বচ্ছতার সঙ্গে আয়কর পরিশাধ করলে আমাদের সমাজ, দেশ ও জাতি সমৃদ্ধ হবে। আসুন আমরা অন্তত এই জায়গাটায় দুর্নীতি ও ফাঁকিবাজি না করি।
কাউসার আহমেদ তুষার
মতলব, দক্ষিণ চাঁদপুর