প্রতি বছরই সুযোগ বুঝে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়িয়ে মানুষকে জিম্মি করে ফেলে। এক্ষেত্রে সরকারের সংরক্ষণ ও সুষম বণ্টনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা না থাকাটাই পরোক্ষভাবে দায়ী! এ জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেতে চাই ‘প্রান্তিক বিতান’, যা স্থাপন হবে প্রতিটি ইউনিয়নে। সংরক্ষণযোগ্য একটি আধুনিক খাদ্য গুদাম তৈরি করতে হবে, যার সঙ্গে বিক্রয়কেন্দ্র প্রান্তিক বিতানে থাকবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও খাদ্যদ্রব্য। মৌসুমে স্থানীয় কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ফসল সংগ্রহ এবং প্রয়োজনে আমদানিকৃত পণ্য এখানে সংরক্ষণ ও পরবর্তী সময়ে বিক্রি হবে।
জাতীয় আইডি কার্ডের নম্বরে এক কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন পোষ্য ধরে একটি রেশন কার্ড করতে হবে। প্রকৃত বাজারমূল্যে এবং বিশেষ সময়ে সরকার ভর্তুকি দিয়ে এখানে খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করবে। কার্ডধারী প্রত্যেকে মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য অর্থের বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারবে। সকলের জন্য ন্যায্যমূল্যে পণ্য ক্রয়ের সুযোগ থাকবে। এর সমস্ত কার্যক্রম সুপারশপের মতো ডিজিটাল অনলাইন পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। একজন ব্যবস্থাপক বদলিযোগ্য স্থায়ীভাবে সরকার কর্তৃক নিয়োগ পাবেন। বাকি বিক্রয়কর্মীরা ন্যাশনাল সার্ভিসের মাধ্যমে ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। তাদের অর্ধেক মজুরি মাস শেষে নগদ প্রদান এবং বাকি অর্ধেক ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে জমা থাকবে। প্রতিটি বিক্রয়কর্মীকে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করা হবে। যারা এলাকায় পরবর্তী সময়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবে। লাইসেন্সসহ যাবতীয় সুবিধা তাদের সরকারের পক্ষ থেকে দিতে হবে। এই উদ্যোক্তাগণ কখনোই জনগণকে জিম্মি করে ব্যবসা করবে না। সার্বিক দিক বিবেচনায় খাদ্যদ্রব্যের সুষম বণ্টন এবং সিন্ডিকেটের দুষ্টচক্র ভাঙতে প্রতিটি ইউনিয়নে চালু করা হোক ‘প্রান্তিক বিতান’।
জাকারিয়া স্বাধীন
পলাশ, নরসিংদী