যুবককে বাঁশের সঙ্গে ঝুলিয়ে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

জকিগঞ্জ উপজেলায় বিচারের নামে কাজলশার ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম ওরফে ফকির মাস্তান মধ্যযুগীয় কায়দায় গিয়াসউদ্দিন নামে এক যুবককে বেঁধে বাঁশের সঙ্গে ঝুলিয়ে নির্যাতন করেছেন। নির্যাতনের এ ভিডিও কয়েক মাস পর গত বুধবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার জকিগঞ্জ সীমান্ত এলাকা থেকে জেলা ও জকিগঞ্জ থানা পুলিশ ফকির মাস্তানসহ চার জনকে গ্রেফতার করে। জকিগঞ্জ থানার ওসি নাসির উদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, ফকির            মাস্তানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবাদ মেম্বার, আনোয়ার ও শাহজাহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, জকিগঞ্জের কাজলশার ইউপি সদস্য ফকির মাস্তান গিয়াসকে বাঁশের সঙ্গে ঝুলিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে পায়ের নিচে মারপিট করছেন। নির্যাতনের শিকার যুবক ব্যথায় আতঙ্কে চিত্কার ও বাঁচার আকুতি জানালেও নির্যাতন থেমে থাকেনি। স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগের  এ ঘটনা ফকির মাস্তানের ভয়ে চাপা থাকে।

এর আগে গত ১২ নভেম্বর ফকির মাস্তানের বিরুদ্ধে সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে আটগ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা শাকিল আহমদ অভিযোগ করেন, তার নির্যাতনে আবদুল মান্নান নামে তার  চাচাতো ভাই নিহত হন। ১০ অক্টোবর মান্নানকে নির্মমভাবে প্রহার করেন তিনি ও তার সহযোগীরা। ঐ দিন রাতেই মান্নান মারা যান। পরে তার মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন ফকির মাস্তান। গোপনে ফকির মাস্তান মান্নানকে দাফন করেন। তার বিরুদ্ধে আরো দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা চাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আব্দুল সালাম বিএনপির কেউ নন। কোনো কমিটিতে তার পদপদবি নেই। তিনি একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী।