শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দিবস ২০১৮; তরুণদের জন্য শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের ভিন্ন উদ্যোগ

বিনম্র শ্রদ্ধা আর শোকগাথা স্মৃতি রোমন্থন ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ পালিত হচ্ছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দিবস-২০১৮। প্রতিবছর এই দিনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন যৌথভাবে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যদায় পালন করে থাকে। যথারীতি প্রতিবারের মতো এবারও অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিবসটি তারা পালন করছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সকালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থলে কুরানখানি, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মাহফিল এবং সন্ধ্যা ৬টায় বিয়াম মিলনায়তনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্মিলনী, সংবর্ধনা, সাংস্কৃৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাবেক সেনা প্রধান লে. জেনারেল হারুন-অর-রশিদ (অব.), বীর প্রতিক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কবি কামাল চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত ও ভাইস চেয়ারম্যান ডা. আহসানুল কবিরসহ শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজি মো. মফিজুর রহমান ও শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশর মহান মুক্তিযুদ্ধে বন্ধু প্রতিম দেশ ভারতীয় সেনাদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে। সর্বশেষ শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির কালচারাল বিভাগের শিল্পীদের আয়োজনে পরিবেশিত হবে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উল্লেখ্য, বিজয়ের প্রথম প্রহর ১৭ ডিসেম্বর ভোরে শতশত মুক্তিযোদ্ধারা বুড়িগঙ্গা নদী পেরিয়ে যখন ঢাকায় ফিরছিলেন, তখন নৌকাডুবিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্তর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুসহ মোট ১১ জন সহযোদ্ধা শহীদ হন। এই ঘটনা তার মনে গভীর রেখাপাত করে। তিনি মনে করেন, আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা আর শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাগণ, যারা বিজয় ছিনিয়ে আনতে আত্মত্যাগ করেছেন। তাই তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে তার ১১ জন শহীদ সহযোদ্ধার স্মৃতির উদ্দেশে প্রতিষ্ঠা করেন ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফাউন্ডেশন’।