বগুড়ার ধুনট উপজেলার হুকুম আলী-মথুরাপুর-চান্দাইকোনা প্রায় ১৬ কিলোমিটার এলজিইডির পাকা সড়কে কমপক্ষে ৯৬টি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। এসব বাঁকের কারণে এই সড়কে মাঝেমধ্যে ঘটে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা থাকায় ও গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলে সময় লাগে বেশি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ধুনট শহর থেকে মথুরাপুর বাজার হয়ে শেরপুরের চান্দাইকোনা মহাসড়ক পর্যন্ত রাস্তার দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে কয়েক দফায় সড়কটি পাকা করা হয়েছে। এতে এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। কিন্তু সড়কের একটু পর পরই রয়েছে বিপজ্জনক বাঁক। এর মধ্যে ধুনট থেকে মথুরাপুর বাজার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কে ৪১টি এবং মথুরাপুর বাজার থেকে চান্দাইকোনা মহাসড়ক পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়কে রয়েছে ৫৫টি বাঁক। এসব বাঁকের কারণে সড়কের বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দেখা যায় না। ফলে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া সড়কঘেঁষে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বসতঘর ও গাছপালা থাকায় দুর্ঘটনা বেশি ঘটে বলে স্থানীয় লোকজন জানান। সড়কের কয়েকটি বিপজ্জনক বাঁকে তৈরি হয়েছে বড়ো বড়ো গর্ত। যানবাহন চালাতে হচ্ছে খুব সতর্কতার সঙ্গে। এই সড়কে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ভটভটি।
অটোরিকশা চালক রুবেল হোসেন বলেন, অনেক মানুষ স্বল্প সময়ে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে যাতায়াতের জন্য এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। কিন্তু এতে দূরত্ব কমলেও একটু পরপর বাঁকের কারণে সময় বেশি লেগে যায়। সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হলো ভেঁপু বা হর্ন না বাজালে বিপরীত দিক থেকে কোনো গাড়ি আসছে কি না, তা বোঝার উপায় থাকে না। এতে করে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। ভটভটি চালক বেলাল হোসেন জানান, কম প্রস্থের এই সড়কে অতিরিক্ত বাঁক থাকায় দ্রুত যানবাহন চালানো যায় না।
এজন্য যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় বেশি লাগে। এতে যাত্রীরা বিরক্ত হন। এ কারণে অনেক সময় যানবাহনের গতি বাড়ানোর ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলার বিভিন্ন পাকা সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। বাঁক চিহ্নিত করে রাস্তা সংস্কার ও বাঁক যতটুকু সম্ভব ঠিক করা যায় কি না, এ ব্যাপারে একটি প্রস্তাবনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত কী করা যায়, সে ব্যাপারেও সমাধানের চেষ্টা করব।