সেন্টমার্টিন সৈকতে যত্রতত্র আবর্জনা!

সেন্টমার্টিন ও ছেঁড়াদ্বীপ সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে এখন নারিকেল ও ডাবের খোসাসহ আবর্জনার স্তূপ জমে থাকতে দেখা যায়। জানা গেছে, পর্যটকদের কাছে ডাব এবং অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করে দিন শেষে ব্যবসায়ীরা ডাবের খোসাসহ অন্যান্য আবর্জনা সরিয়ে না ফেলায় সৈকতে বর্জ্যের স্তূপ তৈরি হয়েছে। বিচের সৌন্দর্য রক্ষার্থে ডাবের খোসাসহ সৈকতে সৃষ্ট বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন সেন্টমার্টিনে ২/৩ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটছে। ভ্রমণপিপাসুরা সৈকতে ঘুরে বেড়ান। সকাল-সন্ধ্যা নির্মল হাওয়া এবং রাত্রিকালীন সৌন্দর্য উপভোগে তারা দ্বীপের চারিদিকে বিচরণ করেন। এ সময় অনেক পর্যটক ডাবের খোসা, চিপস, পানীয় বোতল এদিক-সেদিক ফেলে দেয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সেন্টমার্টিন জেটির সম্মুখে মাইকিং করা হলেও অনেকেই সচেতন হচ্ছেন না। তবে বিচে পর্যটকদের সচেতন করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো কর্মী নেই বলে স্থানীয় লোকজন জানায়।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কিছু সাইনবোর্ডে লাগানো হয়েছে। তারা পর্যটক এবং স্থানীয়দের স্বার্থে কিছুই করেন না। দ্বীপ এবং সৈকত পাড়ে রয়েছে অনেক ছোটো ছোটো দোকান। এসব দোকানিরা ডাব, পানীয় এবং খাদ্য জাতীয় দ্রব্যাদি বিক্রি করে পর্যটন মৌসুমে ভালো ব্যবসা করেন। কিন্তু সৈকত পাড়ের দোকানিরা বিচের আশে পাশে ময়লা-আবর্জনা রেখে দেন। এসব ময়লা-আবর্জনায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

ছেঁড়াদ্বীপের দোকান ব্যবসায়ী শুক্কুর মাঝি জানান, আসলে দ্বীপের দোকানি এবং ডাব বিক্রেতারা কেবল ব্যবসা করেন। কিন্তু নিজেদের আবর্জনা নিজ দায়িত্ব পরিষ্কার না করায় সৈকতে ময়লা আবর্জনা সৃষ্টি হচ্ছে। সেন্টমার্টিন ইউপির চেয়ারম্যান নূর আহমদ জানান, পরিষদের পক্ষ থেকে সৈকতে ছোট্ট ছোট্ট ডাস্টবিন দেওয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। সৈকতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিচ কর্মী না থাকায় এসব ডাস্টবিনে কাজ হচ্ছে না।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নুরুল আমিন জানান, বিচে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি মূলত ওখানকার ইউনিয়ন পরিষদের ওপর বর্তায়। ঐ কর্মকর্তা জানান, আমরা জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম করে যাচ্ছি।