সিলেটের মাঠে মাঠে এখন সোনালি ফসলের ঝিলিক। যে দিকে চোখ যায় সে দিকেই কাচা-পাকা ধান। কোনো কোনো স্থানে উত্সবের সঙ্গে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। সিলেটের বিশ্বনাথ, ছাতক, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সদর, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, বাহুবল এবং সিলেট ও মৌলভীবাজারে কুলাউড়াসহ বিভিন্ন উপজেলা পরিদর্শনে দেখা যায় আমন ধান বাতাসে খেলছে। কোনো কোনো স্থানে ধান কেটে মাড়া দিচ্ছেন কৃষকরা। বাড়ির উঠোন ভরে আছে কাটা ধানের গোছায়। তার পর ঘরে ঘরে ধান মাড়াইয়ের পর শুরু হবে শীতের পিঠা-পার্বনের উত্সব।
এদিকে, গত সপ্তাহে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের হিলালপুরে উত্সবের মাধ্যমে ধান কর্তন শুরু হয়। স্থানীয় কৃষক বাদল মালাকার ও আব্দুল হামিদের ব্রি ধান-৭০ কেটে এ মৌসুমের ধান কর্তনের উদ্বোধন করেন ঢাকা খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (শষ্য উইং) মো. আব্দুর রাজ্জাক ও অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলীমুজ্জামান। এ সময় সিলেটের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহজাহান, উপ-পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিনসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও এলাকার কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ইলিয়াস বলেন, ‘সর্বত্রই ফলন ভালো হওয়ার খবর আসছে। আশা করি এবার রোপা আমনের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। চলতি আমন মৌসুমে সিলেটের চার জেলায় ১০ লাখ ৫০ হাজার ৭৩ মে. টন চাল পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সিলেট বিভাগে গত বুধবার পর্যন্ত ২৮ হাজার ৭১১ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান কাটা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কয়েকদিনের মধ্যেই পুরোদমে কাটা-মাড়া শুরু হয়ে যাবে। সিলেট অঞ্চলে চলতি মৌসুমে ৪ লক্ষ ২ হাজার ১২ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে। উপ-পরিচালক বলেন, ‘বুলবুল’ এর প্রভাবে পাকা ধানের কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধান গোলায় তোলা সম্ভব হবে।
কৃষক বাদল মালাকার জানান, কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের শিখানো আলোক ফাঁদ তৈরি, নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, সুষম সার প্রয়োগ, পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি, ক্ষেতের পানি ঘাটতি পূরণসহ বিভিন্ন কৌশল বাস্তবায়ন করায় এবার ফলন ভালো হয়েছে।
‘শেষ দিকে যারা আমন বপন করেছেন, তাদের ক্ষেত বরং ভালো হয়েছে,’ বলেন সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তরা। কৃষি পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম জানান, মৌলভীবাজার, ছাতক, সিলেট সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতি হেক্টরে সাড়ে ৬ মেট্রিক টন আমন উত্পাদন হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এবার ব্রিধান-৪৯, ব্রিধান-৫২, বীণা-৭ সহ বিভিন্ন জাতের ধানের ফল হয়েছে আশানুরূপ।