যে বয়সে শিশুকে হাতেখড়ি দেওয়া হয় শিক্ষার, সেই বয়সে ঐ শিশুকে শেখানো হয় বাঁশের সামগ্রী তৈরির কাজ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, শিক্ষার ক্ষেত্রে অনগ্রসর গঙ্গাচড়ার বাঁশপল্লির শিশুরা।
উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের বাজারে ২৫টি পরিবার বাঁশশিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছে এখনো। এসব পরিবার আজও অবহেলিত, অনুন্নত। মান্ধাতা আমলের আদি পেশাকে আঁকড়ে কোনো রকম জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা।
অভাব-অনটন তাদের নিত্যসঙ্গী। বসতবাড়ি ছাড়া তাদের আর কিছুই নেই। জীবন-জীবিকার তাগিদে মেয়েরা বাপের বাড়িতে এবং ছেলেরাও নিজ বাড়িতে বাঁশের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরির কাজ শেখে। যাতে মেয়েরা স্বামীর বাড়িতে গিয়ে ঐ কাজ করে স্বামীর সংসারের হাল ধরতে পারে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁশপল্লির লোকজন দল বেঁধে কাজ করছে। বাচ্চু দাসের পরিবারে স্ত্রী স্বপ্না, তিন ছেলে ও এক মেয়ে। তিন ভাই, এক বোন ষষ্ঠী চরন দাসের। এদের কেউ লেখাপড়া শেখেনি। খট্টু দাসের স্ত্রী, তিন ছেলে স্কুলে যায় না। ঐ গ্রামের সুধা রানি দাস (৫২) জানান, আমরা জন্মের পর থেকে বাপের বাড়িতে এসব কাজ শিখে এসেছি। ৪০ বছর ধরে এসব কাজ করছি। আমাদের সন্তানরাও বাঁশের কাজ শিখছে। তবে বর্তমানে দু-একজন করে লেখাপড়া শিখছে।
এদিকে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন গৃহস্থালি আসবাবপত্র বিশেষ করে ডালি, কুলা, চালন ইত্যাদি আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে। তারপরও জীবিকার তাগিদে বাঁশশিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছে এসব পরিবার। তবে দিন যায়, সময় বয়ে চলে, কোনো উন্নয়ন নেই এসব পরিবারে। উন্নত প্রশিক্ষণ পেলে এই পরিবারগুলো বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরি করে শিক্ষাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রসর হতো বলে এলাকাবাসী মনে করেন।