রোহিঙ্গা :গোদের ওপর বিষফোড়া

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দুই বছর পূর্তি পালনের নামে যে মহাসমাবেশ, তা আমাদের মনে এক ধরনের ভয় ধরিয়ে দেয়। যে মানবিকবোধ থেকে বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের মানুষ আশ্রয় দিয়েছিল তাদের, সেই মানবিকতার ধারেকাছেও তারা নেই। নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হওয়ার সময় তাদের পক্ষ থেকে এমন একজন লোকও পাওয়া যায়নি, যে কি না তাদের হয়ে বিশ্ব মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলবে, তাদের মুখপত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু এই দেশে এসেই তারা কেমন করে এত শৃঙ্খলভাবে সুসংগঠিত হয়, তা ভাববার বিষয়। তাদের এই সুগঠিত হওয়া খুব অশনি সংকেত মনে না হলেও আমাদের জন্য তা মোটেই সুখকর নেই। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্ববাসীকে যেভাবে পাশে পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলাম আমরা, তার সিকিভাগও পাইনি। বরং অবস্থা হয়েছে উলটো। দায়সারাভাবে কতিপয় নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থা কিছু বাণী ও হম্বিতম্বি ছাড়া কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি বা নেননি। বাংলাদেশের মতো এমন জনবহুল ও জনগণের চাপে চ্যাপটা হওয়া  দেশে বারো লক্ষাধিক বাড়তি জনগণের আবাসন, খাদ্য ও জনস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব।

অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই খুন, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ছে। ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টাও তাদের নিরন্তর। তাদের কারণে স্থানীয় জনগণ অতিষ্ঠ। অথচ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেবা প্রদানের নামে এনজিওগুলো দাতাগোষ্ঠীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিজেদের পকেটে ভরে, রোহিঙ্গাদের নানাভাবে এই দেশে থেকে যাওয়ার প্ররোচনা দিচ্ছে। যা ভবিষ্যতের জন্য এক অশনি সংকেত। বিতাড়িত এই  রোহিঙ্গারা যে কোনো সময়  বাংলাদেশের মূল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে না, তার কোনো নিশ্চয়তা  নেই। বাস্তবে যদি হয়ও এমনটা, তবে রোহিঙ্গাদের প্রতি সরকার নিশ্চয় এমন জামাই-আদুরে আচরণ চালিয়ে যেতে পারবে না। অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গাগোষ্ঠী এক মারাত্মক হুমকি ও মাথাব্যথার কারণ।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বজাত্যবোধ বা স্বাধীনতার অধিকারবোধ যদি সত্যিকার অর্থেই জেগে থাকে, তাহলে তারা রাখাইনে গিয়েই আন্দোলন করে হারানো অধিকার উদ্ধার করুক। এই দেশে থেকে যেন তারা আন্দোলন তৈরি করার নামে কোনো উগ্রপন্থি সংগঠনের জন্ম দিতে না পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা বাহিনীসহ সামরিক বাহিনীকেও এই ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। তাই সরকারের কাছে জোরালো আবেদন, অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানগ্রহণ, প্ররোচনাকারী ব্যক্তি-গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে গোদের ওপর বিষফোড়ার মতো প্রদাহময় জাতীয় সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট হোন।

কিশোরগঞ্জ