পদ্মা সেতুর গুজবকারীরাই লবণের গুজব ছড়িয়েছে

পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে মাথা লাগবে। মাথা সংগ্রহ করতে ছেলেধরা বা কল্লাকাটা গ্রুপ এখন মাঠে নেমেছে—এমন গুজব ছড়িয়ে গত জুলাইয়ে সারাদেশে ছেলেধরা সন্দেহে এক নারীসহ ১০ জনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। দুবাই থেকে জাগো বাংলাদেশ নামে একটি ওয়েব পোর্টাল থেকে এ গুজব ছড়ানো হয়। ঐ চক্রটি সম্প্রতি লবণের কেজি ২০০ টাকা হবে—এরকম পোস্ট দিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করে তোলে। এ গুজব প্রথমে ছড়ানো হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এরপর আস্তে আস্তে সেটি ছড়িয়ে পড়ে। বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। দোকানে দোকানে লবণ নিয়ে কাড়াকাড়ি হয়। পরে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে লবণ নিয়ে গুজব প্রতিরোধ করা হয়।

র্যাব ও ডিএমপির সাইবার ক্রাইম সেল গুজব সৃষ্টিকারী প্রায় ৫০০ ফেসবুক আইডি শনাক্ত করেছে। এ আইডিগুলোতে গত ১৮ নভেম্বর বেলা ২টার পর থেকে লবণের দাম বৃদ্ধি পাবে বলে পোস্ট দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাদের পোস্ট দেখে অন্যরাও উত্সাহিত হয়ে পোস্ট দেয়। এতে দ্রুত গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখার পদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, কিছুদিন আগে পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে—এই গুজব দুবাই থেকে বিএনপি-জামায়াতপন্থি একটি চক্র ছড়িয়েছিল। লবণের মূল্য বৃদ্ধির গুজব দুবাই থেকে পোস্ট করে। এরপর দেশ থেকেই একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সেটি ভাইরাল করে। বিষয়টি বিটিআরসির নজরে আসার পর ১৮ নভেম্বর বিকালের দিকে ঐ ওয়েব পোর্টালের গেটওয়ে বন্ধ করে দেয়। আইডিগুলো পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, যারা ঐ গুজব ছড়িয়েছে তাদের বেশির ভাগ সরকারবিরোধী মতাদর্শ লালন করেন।

পুলিশ সদরের আইসিটি শাখা সূত্র জানায়, সুজন নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুক আইডিতে প্রাইভেট জব হোল্ডার নামে নিজেকে দাবি করে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ফেসবুকে তার জেলা লেখা আছে মুন্সীগঞ্জ। গত ১৮ নভেম্বর সকালে তার প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তা হলো, ‘ওহ বড় কষ্ট’ লবণের মূল্য এখন ১৫০ টাকা। কই যামু। তার দেখাদেখি একাধিক ব্যক্তি এমন পোস্ট দিয়েছেন। তবে পেঁয়াজের আমদানি কমে যাওয়ার কারণে হঠাত্ মূল্য বাড়ে। কিন্তু, হঠাত্ লবণের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। বাজার নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে মাঠে নামানো হয়। টিসিবিসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। তারা মাঠপর্যায়ে বিষয়টি তদন্ত করতে শুরু করেন।