ব্যাটিং ব্যর্থতা দিয়েই শুরু হলো বাংলাদেশের

দর্শকে পূর্ণ ইডেন গার্ডেন্সের গ্যালারি। ৪০ হাজারের বেশি দর্শকের উন্মাতাল হর্ষধ্বনি। দিবারাত্রির প্রথম টেস্ট, গোলাপি বলের ক্রিকেট উত্সবে সানন্দে শামিল হয়েছেন কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীরা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ঘণ্টা বাজিয়ে উদ্বোধন করা ইডেন টেস্টের প্রথম দিনে উত্সবের কমতি নেই।       বিসিসিআইয়ের সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে মাঠে গিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন হাসিনা-মমতা। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের ক্রিকেটাররাও তখন মাঠে ছিলেন। পরে শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে বসে কিছুক্ষণ খেলা উপভোগ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

ঐতিহাসিক ও আনন্দঘন এমন আয়োজনটাই বিবর্ণ হয়ে গেছে বাংলাদেশ দলের হতশ্রী ব্যাটিংয়ে। ভারতীয় ফাস্ট বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ইশান্ত শর্মা-শামির বোলিংয়ে ভূপাতিত বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেছে ১০৬ রানে। মাত্র ৩০.৩ ওভার স্থায়ী হয়েছিল ইনিংসটা।  এর মধ্যেই শামির বাউন্সারে নাকাল হয়ে ম্যাচ থেকেই ছিটকে পড়েছেন কনকাশনের (মাথায় আঘাত) শিকার হওয়া লিটন দাস ও নাঈম হাসান। তাদের বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। এক ম্যাচে এমন দুটি ঘটনা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সত্যিই বিরল। পরে স্থানীয় হাসপাতালে তাদের দুজনের স্ক্যান করা হয়েছে। খারাপ কিছু পাওয়া যায়নি। গতকাল রাত ৯টায় কলকাতার উডল্যান্ড হাসপাতালের চিকিত্সক সপ্তর্ষী বসু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারপরও লিটন-নাঈমকে ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এলাহি আয়োজনে ভরপুর ইডেন টেস্টের প্রথম দিনটা নিজেদের করে নিয়েছে ভারত। প্রথমে বাংলাদেশকে দ্রুত অলআউট করার পর ব্যাট হাতে ৩ উইকেটে ১৭৪ রান তুলেছে স্বাগতিকেরা। কোহলি ৫৯, রাহানে ২৩ রানে ব্যাট করছেন। ৬৮ রানে এগিয়ে আছে ভারত।

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুমিনুল হক। অনেক আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে শুরু হওয়া ম্যাচে দুর্যোগের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। ভারতীয় পেসারদের দুরন্ত বোলিংয়ের জবাবই যেন ছিল না ইমরুল-মুশফিকদের কাছে। ৩৮ রানেই বাংলাদেশ হারিয়ে বসে ৫ উইকেট। ধ্বংসস্তূপ থেকে মাথা তুলে দাঁড়ানোটা আর সেভাবে সম্ভব হয়নি। বিপদের অগ্নিগর্ভে পড়ে বাংলাদেশ হারিয়েছে ম্যাচের লাগাম।

সপ্তম ওভারে ইমরুল (৪) বিদায় নেন। ইশান্ত-উমেশের সুইং, গতির ঝড় এলোমেলো করে দেয় বাংলাদেশকে। ১১তম ওভারে অধিনায়ক মুমিনুল (০), মিঠুন (০) উমেশের শিকার হন। পরের ওভারে মুশফিক (০) বোল্ড হন। ৭ রানে তিন নির্ভরযোগ্য মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ফিরে যান। বিপর্যস্ত বাংলাদেশের ভরসা হতে পারেননি সাদমান, মাহমুদউল্লাহও। সাদমান ২৯, মাহমুদউল্লাহ ৬ রান করেন।

স্রোতের লড়াই করার ব্রত ছিল লিটন দাসের ব্যাটিংয়ে। কিন্তু শামির বাউন্সার থামিয়ে দেয় তার পথচলা। ২৪ রান করে অবসরে যেতে বাধ্য হন লিটন। পরে নাঈম হাসানের ১৯ রানে ১০০ পার হয় বাংলাদেশের স্কোর। লাঞ্চের পরপরই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। লিটনের বদলি নামা মিরাজ ৮ রানে করেন। ভারতের পক্ষে ইশান্ত শর্মা ৫টি, উমেশ যাদব ৩টি, শামি ২টি করে উইকেট পান।

ব্যাটিংয়ে নেমে পঞ্চম ওভারে মায়াঙ্ক আগারওয়াল (১৪) আল-আমিনের শিকার হন। রাহীর বলে রোহিত শর্মার সহজ ক্যাচ ফেলেছিলেন আল-আমিন। পরে সেই রোহিতকে (২১) ফিরিয়েছেন এবাদত। ৪৩ রানে ২ উইকেট হারানো ভারতকে টেনে নেন পূজারা ও কোহলি। তারা ৯৪ রানের জুটি গড়েন। পূজারা ৫৫ রান করেন। বাকি সময়টা কাটিয়ে দিয়েছেন ৩৭ রানের জুটি গড়া কোহলি ও রাহানে। বাংলাদেশের এবাদত ২টি, আল-আমিন ১টি করে উইকেট নেন।