চট্টগ্রামে বন্ধ হয়নি নীরব চাঁদাবাজি

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বন্ধ হয়নি নীরব চাঁদাবাজি। নানা অজুহাতে মানুষের কাছ থেকে এই চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। শুদ্ধি অভিযানের কারণে নামকরা চাঁদাবাজেরা বর্তমানে গা ঢাকা দিলেও তাদের জায়গায় মাঠে নেমেছে পাতি সন্ত্রাসীরা। রাজনৈতিক দল, অঙ্গসংগঠনের বড়ো ভাইদের নাম ব্যবহার করার পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের নামে চলছে চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের প্রধান টার্গেট বড়ো ব্যবসায়ী হলেও সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার ক্ষুদ্র দোকানদার, ফুটপাতের হকার, এমনকি ভ্যানে শাকসবজি বিক্রেতারাও রেহাই পাচ্ছেন না। ভবন নির্মাণ কিংবা ছোটোখাটো একটা দোকান চালু করতেও চাঁদা দিতে হয়। কারো কাছ থেকে সরাসরি, আবার কারো কাছে ফোনে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। দোকানদারদের চাঁদা দিতে হয় মাসিক নির্ধারিত হারে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দেওয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি। ভয়ে, আতঙ্কে কেউ পুলিশের কাছে যেতে সাহস পায় না। আবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও প্রতিকার পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও পুলিশ বলছে, সুস্পষ্ট অভিযোগ না থাকলে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। অন্যদিকে মোবাইল ফোনে যারা চাঁদাবাজি করে, তাদের অধিকাংশই ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে। এ কারণে অপরাধীদের শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন থানায় একাধিক জিডি হয়েছে।

জানা গেছে, দেশব্যাপী শুদ্ধি অভিযানের কারণে গত কিছুদিন ধরে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে নামকরা সন্ত্রাসীরা। তবে বিদেশে বসেই তারা চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির কলকাঠি নাড়াচ্ছে। চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ হোসেন খান ওরফে সাজ্জাদ, তার অনুসারী সরওয়ার ও নূরনবী ওরফে ম্যাক্সনের বিরুদ্ধে বিদেশে বসেই চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন যুবলীগের ক্যাডার একরাম। বহদ্দারহাটে আট খুনের ঘটনায় প্রথম আলোচনায় আসেন সাজ্জাদ। এদের মধ্যে সাজ্জাদ ভারতের পাঞ্জাবে আর ম্যাক্সন ও সরওয়ার কাতারে অবস্থান করছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। তাদের নাম দিয়ে বিভিন্ন মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে বায়েজিদ-পাঁচলাইশ এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ।

গত সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামের দুজন ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসীরা। চাঁদা না দেওয়ায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঐ ব্যবসায়ীদের একজনের বাড়িতে পেট্রল বোমাও নিক্ষেপ করে তারা। এ ঘটনার পর চট্টগ্রামের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ পাঁচ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সিএমপির সহকারী কমিশনার (বায়েজিদ জোন) পরিত্রাণ তালুকদার জানান, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে শিবির ক্যাডার সরওয়ার ও ম্যাক্সন এবং কথিত যুবলীগ নেতা একরামের বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এতে উঠে আসে তারা কাতারে বসে সন্ত্রাসীদের দিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চাঁদাবাজি করাচ্ছে। এর সত্যতা পেয়ে সাজ্জাদ, সরওয়ার ও ম্যাক্সনকে কাতার ও ভারত থেকে গ্রেফতার করতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়ে নগর পুলিশের উপকমিশনারের (বিশেষ শাখা) কাছে চিঠি দেন বায়েজিদ থানার ওসি। তবে ঐ তিন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারে এখন পর্যন্ত ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। নগর পুলিশের বিশেষ শাখার ডিসি আবদুল ওয়ারিশ জানিয়েছেন, বিদেশে তাদের অবস্থান নিশ্চিত না হয়ে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া যায় না। ঐ তিন শীর্ষ সন্ত্রাসীর অবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছেন তারা।