মহেশখালীর অর্ধশতাধিক জলদস্যুর আত্মসমর্পণ আজ

আগে জলদস্যু, পাহাড়ি সন্ত্রাসী, চিহ্নিত ডাকাত অপরাধ জীবন ছেড়ে আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করলেও অস্ত্র তৈরির  কারিগর আত্মসমর্পণ করার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। কিন্তু আজ শনিবার প্রথমবারের মতো আত্মসমর্পণ করছেন মহেশখালীর অস্ত্র তৈরির খ্যাতনামা ডজনাধিক কারিগর। এরই মধ্যে আত্মসমর্পণের জন্য সেভহোমে আসা অপরাধীদের মাঝে অস্ত্র তৈরির শীর্ষ কারিগর জাফর আলমসহ আরো ১২ জন অভিজ্ঞ ও দক্ষ কারিগর রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে  সেইফহোমে আসা এক অস্ত্র কারিগর বলেন, মহেশখালীতে তৈরি হওয়া অবৈধ অস্ত্রের গায়ে ‘Made in Zafor’ লেখা থাকলে এর দাম অন্য কারিগরের তৈরি অস্ত্রের চেয়ে বেশি নেওয়া হতো। তার মতে, ‘জাফর’-এর কারখানায় তৈরি অস্ত্র সারাদেশে সরবরাহ করা হতো। জানা গেছে, দেড় শতাধিক অবৈধ অস্ত্র, প্রায় ২ হাজার গোলাবারুদ, ধারালো ভয়ংকর অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ শীর্ষ অস্ত্র কারিগর, দাগী অপরাধী, বহু মামলার পলাতক আসামি ও জলদস্যুরা আত্মসমর্পণ করবেন। মহেশখালীর কালারমারছরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কক্সবাজার জেলা পুলিশের ব্যবস্থাপনায় সকালে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান চলবে। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি, পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী উপস্থিত থাকবেন। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেকউল্লাহ রফিক, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যরা, র্যাবের কর্মকর্তা, বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার, কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধি, মহেশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ বাদশা, কালারমারছরার ইউপি চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর মহেশখালীতে অনুরূপভাবে ৪৩ জন সশস্ত্র জলদস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। সেখানে ৪৩ জনের মধ্যে ৩৭ জন জলদস্যু আনন্দ টিভির বিশেষ প্রতিনিধি আকরাম হোসাইনের মধ্যস্থতায় আত্মসমর্পণ করেন। মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়ার সমুদ্র উপকূলের ভয়ংকর জলদস্যুরা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।