রঙ্গমেলা’য় রঙিন দিন

 

জমে উঠেছে আন্তর্জাতিক নাট্যোত্সব বটতলা রঙ্গমেলা। নাটক, গান, কবিতা, মূকাভিনয়, নাচসহ বিভিন্ন আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উত্সব চলছে রাজধানীর আগারগাঁও মুক্তিযদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে। রঙ্গমেলায় এবারই প্রথম শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। গতকাল ছিল শিশুপ্রহরের শেষ দিন।

মুক্তিযদ্ধ জাদুঘরের দ্বিতীয় তলার ঋদ্ধ মঞ্চে সকাল ১১টায় শুরু হয় শিশুদের আঁকিবুকি। ১৮ বছরের নিচের ছেলেমেয়েরা তাদের সৃজনশীলকা প্রকাশ করেছে রঙ-তুলিতে। দুপুর ১২টায় শুরু হয় পুতুলনাট্য ‘মানুষ’। শিশুদের জন্য আয়োজন হলেও সকল বয়সী মানুষের উপস্থিতি ছিল সেখানে। শিশুরা তো আনন্দে মেতেছিলেন, সেইসঙ্গে তরুণ-যুবক-বৃদ্ধরাও ফিরে গিয়েছিলেন শৈশবে। বিকেলের আয়োজন শুরু হয় তথ্যচিত্র ‘বিহাইন্ড দ্য কার্টেন:এ জার্নি উইথ বিভাস চক্রবর্তী’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে। এরপর ‘শরীর, নৃত্য ও প্রশ্ন’ বিষয়ে নানা কথা বলেছেন জলপাইগুড়ির শৈবাল বসু।

নাটকের পর্ব শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টায়। বহিরাঙ্গনের নাদিম মঞ্চে মঞ্চস্থ হয় ঢাকা থিয়েটারের নাটক ‘ফিয়ারলেস’। আরো একটি নাটক মঞ্চস্থ হয় এদিন। ভারতের জলপাইগুড়ি কলাকুশলী নাটকের দলের নাটক ‘শুক’। নাটকটি রচনা করেছেন ও নির্দেশনা দিয়েছেন তমোজিত্ রায়।

পুরস্কার পর্বও ছিল এদিন। বটতলা বিভাগীয় সম্মাননা তুলে দেওয়া হয় রাজশাহী বিভাগের নাট্যজন অনিতা মৈত্রকে এবং অন্তরালের সম্মাননা ২০১৯ তুলে দেওয়া হয় শব্দ সহযোগী উজ্জ্বল চন্দ্র সরকারের হাতে। নাটক শেষে নাটকের অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের হাতে স্মারক তুলে দেওয়ার পরপরই নির্দেশকের মুখোমুখি পর্বে শুরু হয় রঙ্গ আড্ডা।

১১ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই নাট্যোত্সবে প্রতিদিন ‘মূল রঙ্গমঞ্চে’ বটতলাসহ বাংলাদেশের ২টি ও বিদেশের ৮টি দল তাদের নাটক পরিবেশন করছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বাংলাদেশ, ভারত, স্পেন, ইরান ও নেপালের। উত্সবটি শেষ হবে ২৬ নভেম্বর।