জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এবং সংকট কাটাতে একটি রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। গতকাল শনিবার ঢাকায় একটি হোটেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
বান কি মুন বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে অবাধ ও নিরাপদে ফেরার জন্য মিয়ানমার সরকারের আরো উদার ও সহানুভূতিশীল হওয়া আবশ্যক। ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি জাতিসংঘ সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
গত জুলাইয়ে তিনি রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘ঢাকা মিটিং অব দ্য গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’-এ যোগ দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যান। সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বান কি মুন বলেন,এটা একটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক অবস্থা। পরিস্থিতি বর্ণনা করা কঠিন (রোহিঙ্গাদের ভোগান্তি), যা আমার কাছে খুবই দুঃখজনক মনে হয়েছে।
জাতিসংঘের সাবেক এই মহাসচিব জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বাস্তবায়ন, নারী ও যুবকদের ক্ষমতায়নসহ সকল বিশ্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ও ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন কার্যক্রমে যথেষ্ট ভালো করছে। জলবায়ু অভিযোজনে গোটা বিশ্বে বাংলাদেশের সাফল্যের ইতিহাস রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল শনিবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম সমাবর্তনে যোগ দিতে একদিনের জন্য ঢাকায় আসেন বান কি মুন। রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সমাবর্তনে বক্তৃতা দেন তিনি। গতকালই তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।