ঘরোয়া ক্রিকেটে উইকেট, কন্ডিশন নিয়ে আলোচনা প্রতি বছরই হয়। খেলার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠে যায় অনেক সময়। যদিও ক্রিকেটার, বিসিবি কর্তারা বলে থাকেন, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মান আগের চেয়ে বেড়েছে। এখন জাতীয় ক্রিকেট লিগে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট হয়। সর্বশেষ জাতীয় ক্রিকেট লিগে খেলে আসা আল-আমিন হোসেনের কথা শুনলে ঘরোয়া ক্রিকেটের মান সম্পর্কে সবার বদ্ধমূল নেতিবাচক ধারণা আরো দৃঢ় হওয়ার কথা।
ইডেন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে আল-আমিন হোসেন স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে শেখার সুযোগ খুবই কম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে পার্থক্যটা আকাশ-পাতাল। অভিজ্ঞতার অভাবেই ইডেনের গোলাপি বলের টেস্টে ভারতের কাছে হেরে গেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই ক্রিকেটারদের জন্য শেখার মূল মঞ্চ বলে মনে করেন ডানহাতি এই পেসার।
ঘরোয়া ক্রিকেটে বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান পাওয়া যায় না। সেখানে বোলিং করে উন্নতি সম্ভব নয়। ভারত সফরে আসার আগেই জাতীয় লিগে ১৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন আল-আমিন। তিনিই আবার ইডেনে ৩ উইকেট পেতে ৮৫ রান খরচ করেছেন। তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকেই শেখার জায়গা মনে করেন তিনি।
শনিবার রাতে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট সম্পর্কে আল-আমিন বলেছেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটের মান ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মান আকাশ-পাতাল পার্থক্য। বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা বিশ্বের টপক্লাস ব্যাটসম্যান। আমি যখন ঘরোয়া ক্রিকেট খেলব তখন তো আর তাদের মতো টপ ক্লাস ব্যাটসম্যান পাবো না। আমার কাছে মনে হয়—যখন আমরা এই ধরনের ম্যাচ বেশি খেলব তখন আমরা বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করব।’
নিয়মিত টেস্ট খেলার মাধ্যমেই সাদা পোশাকের ক্রিকেটে উন্নতি আশা করছেন আল-আমিন। এই ফরম্যাটে আরো বেশি ম্যাচ চান ডান-হাতি এই পেসার। টেস্টে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার কারণ জানতে চাইলে আল-আমিন বলেছেন, ‘আমরা ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি অনেক খেলছি, তাই আমরা অনেক বেশি ধারাবাহিক। আমার মনে হয় আমরা টেস্ট ম্যাচ অনেক কম পাই। আমরা শেষ খেলেছি কিন্তু সেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এর আগে বিশাল বিরতি আছে এবং ইন্ডিয়া কিন্তু খেলতেই আছে, খেলতেই আছে। তাই সেই হিসেব করলে হবে না। আমরা এই ধরনের সুযোগ যত বেশি পাব, ততই আমরা অভিজ্ঞ হবো, তখনই আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব।’
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেই ভারতীয় পেসাররা নাকাল করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। ইশান্ত শর্মা, মোহাম্মদ শামি, উমেশ যাদবরা ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। ইশান্ত-উমেশদের মতো বোলিং করতে না পারার কারণ হিসেবে অনভিজ্ঞতার কথাই বলেছেন আল-আমিন। বল হাতে ভয়ংকর হতে পারেননি বাংলাদেশের পেসাররা। তিনি বলেছেন, ‘এর কারণ অভিজ্ঞতা বলতে পারেন।’
অভিজ্ঞতার কারণে দ্রুতই উইকেট-কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন ভারতীয় পেসাররা। বেশি টেস্ট খেলার কারণেই এই অভিজ্ঞতা রয়েছে ভারতীয়দের। আল-আমিন বলেছেন, ‘দেখেন ওদের যে বোলিং আক্রমণ শামি ভাই বলেন, ইশান্ত বলেন, উমেশ বলেন—ওরা জানে যে কোথায় হিট করলে উইকেট নেওয়া যায়। ওরা অনেক অভিজ্ঞ। ৬০-৭০ টা টেস্ট খেলে ফেলেছে। আমরা যারা আছি হয়তো পাঁচ-ছয়টা টেস্ট খেলেছি। সেই হিসেবে ওরা এগিয়ে। ক্রিকেট খেলায় আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে কীভাবে উইকেট নেওয়া যায়। এই ব্যাপারটা ওরা আমাদের চেয়ে বেশি করতে পেরেছে।’