সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের সাত বছর পূর্তি পালিত হয়েছে। নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের স্মরণে শোক মিছিল করেছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও পোশাক শ্রমিকরা। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন তারা, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে পালন করেন মানববন্ধন কর্মসূচি। রবিবার সকাল থেকে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় তাজরীন ফ্যাশনের সামনে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নিহত শ্রমিকদের হত্যাকাণ্ডের বিচার চান এবং নিহত, আহত ও নিখোঁজ শ্রমিক পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানান। এসময় নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিকরা ছাড়াও বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি, বাংলাদেশ বস্ত্র পোশাক শ্রমিক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, তৃণমূল গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, আহত শ্রমিকদের চিকিত্সা সহায়তা ট্রাস্ট, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তোবা গ্রুপের তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মারা যান ১১৩ জন শ্রমিক। আহত হন পাঁচ শতাধিক শ্রমিক। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানার এসআই খায়রুল ইসলাম অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় নাশকতার পাশাপাশি অবহেলাজনিত মৃত্যুর দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারা যুক্ত করে ২০১২ সালের ২২ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক একে এম মহসিনুজ্জামান খান। এতে তাজরীন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ও চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার মিতাসহ প্রতিষ্ঠানটির ১৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
কর্মক্ষেত্রের সব দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও
দায়ীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি
গতকাল সকালে জুরাইন কবরস্থানে তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিল্স)। বিল্স-এফএনভি প্রকল্পের উদ্যোগে জুরাইন কবরস্থানে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তারা দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার ও হতাহতদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। কর্মক্ষেত্রের সকল দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, ক্ষতিপূরণের একটি জাতীয় মানদণ্ড তৈরি করার পাশাপাশি এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন বিল্স এর উপদেষ্ঠা পরিষদ সদস্য ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম সমন্বয়কারী মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সভাপতি রুহুল আমিন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশ-এর সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, বিল্স এর নির্বাহী পরিষদ সদস্য কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ অ্যাপারেলস্ ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি তৌহিদুর রহমান, বাংলাদেশ বিপ্লবী গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন এর সভাপতি সালাউদ্দিন স্বপন প্রমুখ।