বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনশন করতে করতে দলের নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়েই মারা গেলেন বিএনপি-অন্তঃপ্রাণ কর্মী রিজভী হাওলাদার। ইন্নাল্লািহি...রাজিউন। শনিবার রাত ১১টার দিকে কার্যালয়ের নিচে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান। রিজভী হাওলাদার বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে ‘দল পাগল রিজভী’ নামে পরিচিত ছিলেন। রিজভীর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের কাছিপাড়া ইউনিয়নের চোট্টকান্দা গ্রামে। তবে তিনি থাকতেন নারায়ণগঞ্জের কুতুবপুরে। সেখান থেকেই প্রতিদিন সকালে চলে আসতেন বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। এসে অনশন করতেন। কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। অনেক সময় বিএনপির কার্যালয়ের নিচে ফ্লোরেই ঘুমিয়ে পড়তেন তিনি। রিজভী হাওলাদারের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিনি শনিবার রাতে অসুস্থ হলে প্রথমে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখান থেকে রিকশায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের নিচে এসে পড়ে যান। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। রিজভী হাওলাদারের লাশ তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী নিয়ে সেখানেই দাফন হয়েছে। তার আগে রিজভী হাওলাদারের প্রথম জানাজা শনিবার দিবাগত রাত দেড়টায় নয়া পল্টনে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেলসহ নেতৃবৃন্দ।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন প্রায়দিন কারাগারে সামনে রিজভী হাওলাদার খালেদা জিয়ার জন্য বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। এছাড়া বিএনপির যে কোনো কর্মসূচিতে কখনো নিজের শরীরে লিখে, আবার কখনো সাদা কাপড় পরে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।