শামির পরামর্শে শানিত রাহী

রাহী

ইন্দোর টেস্ট

১০৮/৪

কলকাতা টেস্ট

৭৭/২

 স্পোর্টস রিপোর্টার, কলকাতা থেকে

বাংলাদেশ দলের পাঁচ ক্রিকেটার এরইমধ্যে ঢাকায় ফিরে গেছেন। বাকিরা রয়ে গেছেন কলকাতায়। আগামীকাল পুরো দলেরই দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। শহরে বেড়ানো, শপিংয়েই সময় কাটছে ক্রিকেটারদের। গতকাল নিউমার্কেটে ঢুঁ মেরেছেন আবু জায়েদ রাহী। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা হতেই জানালেন, পরিবারের সদস্যদের জন্য শপিং করেছেন তিনি।

ভারত সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বোলিংটাই ছিল বাংলাদেশের মুখ রক্ষার জায়গা। ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতায় দুই টেস্টেই বড়ো হার দেখতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ভারতীয় ফাস্ট বোলারদের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। বোলারদের মধ্যে রাহী ছিলেন সবচেয়ে সফল। দুই টেস্টে ৬ উইকেট নিয়েছেন ডানহাতি এই পেসার। ইন্দোরে ১০৮ রানে ৪ উইকেট ও ইডেনে ৭৭ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তার ঝুলিতে আছে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার মতো উইকেটও রয়েছে।

সাত ম্যাচের ক্যারিয়ারে ১৭ উইকেট নেওয়া রাহী এখন টেস্ট দলের নিয়মিত মুখ। গতির ঝড় তুলতে না পারলেও লাইন-লেন্থ, সুইং মিলে সবচেয়ে শৃঙ্খলিত বোলার তিনি। বোলার হিসেবে প্রতিনিয়তই উন্নতি করতে চান এই তরুণ। বোলিং নিয়ে কথা বলেছেন ভারতীয় ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ শামির সঙ্গে। টিপস পেয়েছেন অনেক। শামি বলেছেন, ফিটনেসের ওপর জোর দিতে।

ভারতীয় এই পেসার দুই টেস্টেই নাভিশ্বাস তুলেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। গতির সঙ্গে সুইং, বাউন্সারে রীতিমতো ভয়ংকর তিনি। ইডেনে তার বলের আঘাতেই কনকাশনের (মাথায় আঘাত) পড়েছেন লিটন দাস, নাঈম হাসান। দুইজনই প্রথম দিনে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েছেন। বাউন্সারে ডাক করতে গিয়েও বল লেগেছে তাদের হেলমেটে। ইশান্ত-উমেশদের পরে এসে শামি বল হাতে জুটি ভাঙতে সিদ্ধহস্ত তিনি।

শামির কাছ থেকে টিপস পাওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল রাহী বলেছেন, ‘শামি ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে অনেক সময় আধাঘণ্টার মতো প্রায়। অনেক কিছু টিপস দিয়েছেন। বলছে চেষ্টা কর। আর ইনশাআল্লাহ ভালো হবে। ফিটনেস নিয়ে উনি বেশি জোর দিছে, যেহেতু পেস বোলার এর ফিটনেস ভালো হলে, অনেক সময় ভালো বোলিং করা যায়। ফিটনেস নিয়ে বেশি জোর দিছে উনি।’

 ইডেনের গোলাপি বলে বোলিংয়ের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে বলেই আশা রাহী। সিলেটের এই তরুণ বলেছেন, ‘যেহেতু বলটা একটু সুইং করে, আমাদের জন্য ভালো। পেস বোলারদের জন্য বিশেষ করে ভালো। এটা থেকে আমরা একটা ভালো শিক্ষা নিয়েছি। আশা করি, ভবিষ্যতে টেস্টগুলো আরো ভালো হবে।’

ভারতীয় পেসারদের মতোই বল হাতে ক্ষুরধার হতে চান রাহী। বোলিং নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। যত বেশি টেস্ট খেলবেন, বোলিংয়ে ততই উন্নতি হবে। বিশ্বমানের বোলিংয়ে যেতে সময় লাগবে বলেই মনে করেন ডানহাতি এই পেসার।

২৬ বছর বয়সি রাহী জানিয়েছেন, ‘আমাদের নিজেদের ভিতরে, যেহেতু আমি পেস বিভাগ নিয়ে বলব। তাই পেস বিভাগে আমরা এটা নিয়ে কাজ ও করি। ফল আসতে একটু সময় লাগবে। কিন্তু আসবে ইনশাআল্লাহ। আমরা মানে নিজেদের স্কিল উন্নত করার চেষ্টা করি। এটা নিয়ে চেষ্টা করব।’

বোলারদের উন্নতির তাগিদটা রাহীরা অনুভব করছেন। বিশেষ করে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ভালো পেস আক্রমণ প্রয়োজন বাংলাদেশের। দেশে, দেশের বাইরে পেসাররাই হতে পারেন বোলিংয়ের মূল অস্ত্র। রাহী বলেছেন, ‘সত্যি কথা বলতে, যেহেতু পেস বিভাগে আমাদের উন্নতি করার প্রয়োজন, আমরা যদি আরেকটু ভালো বোলিং করতে পারতাম, তাহলে হয়তোবা টিমের জন্য আরেকটু ভালো হতো।’