দেশে ফিরেছেন বিধ্বস্ত ক্রিকেটাররা
স্পোর্টস রিপোর্টার
ব্যাটসম্যানরাই বেশি হতাশায় পুড়িয়েছেন। ভারতীয় পেসারদের সামলে বলার মতো একটা ইনিংসও খেলতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এই ম্লান এক টেস্ট সিরিজের মধ্যে তবু ইডেনে একটু উজ্জ্বল ছিলেন বাংলাদেশের পেসাররা। দুই টেস্টেই পেসাররা উইকেটকে কাজে লাগিয়ে কিছুটা ছন্দ দেখাতে পেরেছেন। তার মধ্যে ইডেনে ৯ উইকেট ফেলে দিয়েছিলেন তারা ভারতের।
এর মধ্যে ৩ উইকেট নেওয়া আল আমিন হোসেন বলছিলেন, এই সিরিজটা খুব খারাপ গেলেও তিনি সামনের দিনগুলো নিয়ে আশাবাদী। ক্রিকেটাররা এই সিরিজে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের সামনে অসহায় হয়ে পড়লেও এই পেসার মনে করেন, তারা অনেক কিছু শিখেছেন। আর সামনের ব্যস্ত বছরটায় এই শিক্ষা খুব কাজে লাগবে বলে মনে করেন অভিজ্ঞ এই পেসার। গতকাল রাতে অধিকাংশ ক্রিকেটার দেশে ফিরে এসেছেন। যদিও আল আমিনরা কয়েকজন একদিন আগেই ফিরেছেন।
আল আমিনের জন্য এবারের ভারত সফরটা ছিল একটু আলাদা একটা অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরেছেন এই ফাস্ট বোলার। এক সময় দেশের ফাস্ট বোলিংয়ের ভবিষ্যত্ মনে করা হতো তাকে। তিনিই যেন হারিয়ে যেতে বসেছিলেন। এই ভারত সফর দিয়ে ফিরলেন টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট দলে। শুরুটা ভালোই করেছেন বলা যায়।
নিজের এই ফেরা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আল আমিন বলছিলেন, ‘জাতীয় দলে খেলাটাই তো একজন ক্রিকেটারের প্রধান লক্ষ্য। আমি একটা সময় নিয়মিত খেলেছি। তারপর তো একটা ছন্দপতন হলো। অনেকদিন বাইরে ছিলাম। এবার আবার ফেরাটা খুব এনজয় করেছি। বল খুব খারাপ করেছি বলে মনে হয় না। আবার জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’
আল আমিনরা ভালো করলেও সবমিলিয়ে বাংলাদেশের সফরটা ভালো গেলো না। শুরুতে একটা টি-টোয়েন্টি জয় ছাড়া প্রাপ্তি তেমন কিছু নেই। তবে আল আমিন এতে খুব নিন্দার কোনো কারণ দেখছেন না। তিনি বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের পাশেই দাঁড়ালেন, ‘আমরা এখানে যেমন সেরা ব্যাটসম্যানদের বল করেছি, আমাদের ব্যাটসম্যানরাও সেরা বোলারদের বিপক্ষে খেলেছে। ওদের এই উইকেটে ওদের বোলারদের খেলা খুব কঠিন। আমাদের ব্যাটসম্যানরা চেষ্টা করেছে। কিন্তু এরকম উইকেটে এত ভালো ফাস্ট বোলার খেলার অভিজ্ঞতা কম বলে খুব ভালো করতে পারেনি।’
পেসাররা বিপরীতে মোটামুটি পারফরম করেছেন। সেজন্য উইকেটকেও একটু কৃতিত্ব দিলেন আল আমিন। তিনি বলছিলেন, ‘উইকেট বোলিং করার জন্য খুব ভালো ছিল। আর বোলাররা সবাই অনেক চেষ্টা করেছে। আমি চেষ্টা করেছি, নিজের সেরাটা খেলার। সবাই আসলে চেষ্টা করেছে।’
আল আমিন মনে করেন, ফলাফল যেমনই হোক, এই ধরনের কঠিন সফর বাংলাদেশের বেশি বেশি করা উচিত। আর তাতেই তারা এই মানের ক্রিকেটের যোগ্য হয়ে উঠবেন, ‘আমাদের এই ধরনের শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বেশি বেশি খেলা উচিত। কম শক্তির দলের বিপক্ষে বেশি খেলে তো তেমন উপকার নেই। বড়ো দলের বিপক্ষে খেললে নিজেদের দুর্বলতাগুলো ধরা পড়ে এবং অনেক বেশি শেখা যায়।’
আর এই শেখার একটা ভালো সুযোগ হতে পারে ২০২০ সাল। আসছে এই বছরটায় ১১টি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। সেখানেই পরীক্ষা হবে, কতটা শিখতে পারল বাংলাদেশ।