চট্টগ্রাম অফিস
নগরীর ব্যস্ততম পোর্ট কানেকটিং রুট। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এ সড়ক বেশি ব্যবহার করা হয়। এই রুটে নিমতল থেকে অলংকার মোড় পর্যন্ত সম্প্রসারণ কাজ করছে সিটি করপোরেশন। আর সড়কের সম্প্রসারণ কাজের কারণে গত দুই বছর যাবত্ কয়েক কিলোমিটার এলাকায় স্থবিরতা বিরাজ করছে। ধুলাবালুর কারণে অন্ধকার আচ্ছন্ন থাকে ব্যস্ততম সড়কটি। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড়ো বড়ো গর্ত, পড়ে থাকা বালু ও ময়লার স্তূপ এবং উন্নয়ন কাজে দীর্ঘসূত্রতা জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত। বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে যানবাহনগুলো এই সড়ক ব্যবহার করে। জাইকার অর্থায়নে ব্যস্ততম সড়কটি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান, ট্রাক ও পণ্য পরিবহন ফেডারেশনের মহাসচিব মো. আবু মোজাফ্ফর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত। বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে আমরা এই সড়কটি ব্যবহার করি। সড়কের কাজে এত ঢিলেমি আমাদেরকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। পণ্য পরিবহনে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি বিকল্প সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। দুই বছর অতিবাহিত হতে চললেও নির্মাণকাজের অর্ধেকও শেষ হয়নি। ফলে সড়কটি দিয়ে কখন যান চলাচল করা যাবে তা বলা যাচ্ছে না। এছাড়া ধুলাবালির কারণে এখানে বসবাস করা যাচ্ছে না। আর সড়কের অনেক দোকানি ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে।
বন্দরের পরিবহন নেতা মোর্শেদ হোসেন বলেন, সড়কটি বন্ধ থাকায় বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে টোল সড়ক ব্যবহার করছি। কিন্তু যানবাহনের বাড়তি চাপে টোল সড়কে নিত্য যানজট লেগে থাকে। তিন চার ঘণ্টা যানজটে গাড়ি আটকে থাকে।
সড়কের কাছের সিমেন্ট ও লোহার দোকানি আবুল হোসেন বলেন, গত দুই বছর যাবত্ কোনো ব্যবসা নেই। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে ক্রেতা আসছে না। ধুলাবালির কারণে দোকানে বসাও যাচ্ছে না।
সড়ক নির্মাণ কাজে তদারকির দায়িত্বে থাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তৈয়ব বলেন, কাজটি একসঙ্গে হলেও চারটি প্যাকেজে ভাগ করে টেন্ডার করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ের কাজ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। তৃতীয় প্যাকেজের ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছে। চতুর্থ প্যাকেজের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার টার্গেট রয়েছে।