বায়ুমণ্ডলে গ্রীনহাউজ গ্যাসের উপস্থিতি রেকর্ড ছাড়িয়েছে

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রীনহাউজ গ্যাসের উপস্থিতি পূর্বের বছরের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণে গিয়ে ঠেকেছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়াও বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে এমন গ্যাস যেমন- মিথেন এবং নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণও আগের তুলনায় বাড়ছে। খবর বিবিসি’র।

আর্কটিক অঞ্চল এবং সারা বিশ্বের মনিটরিং স্টেশনগুলো থেকে সংগৃহীত ডেটা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বলেছেন, ২০১৮ সালে কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব প্রতি মিলিয়ন (পিপিএম) ৪’শ ৭ দশমিক ৮ এ পৌঁছেছে, যা এক বছর আগে ছিল ৪’শ ৫ দশমিক ৫ পিপিএম। এই বৃদ্ধি গত ১০ বছরের গড় পরিমাণের তুলনায় বেশি এবং ১৭৫০ সালের প্রাক-শিল্প সময়কার তুলনায় ১’শ ৪৭ শতাংশ বেশি। 

ডব্লিউএমও বায়ুমণ্ডলে মিথেন এবং নাইট্রাস অক্সাইডসহ অন্যান্য উষ্ণতর গ্যাসের ঘনত্বও রেকর্ড করেছে। বায়ুতে নির্গত প্রায় ৪০ শতাংশ মিথেন প্রাকৃতিক উত্স যেমন জলাভূমি থেকে আসে। বাকি ৬০ শতাংশ গবাদি পশু পালন, ধান চাষসহ নানা মানবিক ক্রিয়াকলাপ থেকে নির্গত হয়। 

আরও পড়ুন: নিয়োগ দুর্নীতি: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা 

মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি প্রাক-শিল্প স্তরের তুলনায় ২’শ ৬৯ শতাংশ এবং নাইট্রাস অক্সাইডের উপস্থিতি ১’শ ২৩ শতাংশ বেড়েছে। 

বায়ুমণ্ডলে এসকল গ্যাসের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। কেননা ১৯৯০ সালের পর গ্রীনহাউস গ্যাসের ফলে বায়ুমণ্ডলের উষ্ণায়ন ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। 

ডব্লিউএমও এর সেক্রেটারি জেনারেল পেত্তেরি বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত প্যারিস চুক্তির আওতায় সমস্ত প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও বায়ুমণ্ডলে গ্রীনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব কমার কোন লক্ষণ নেই।’ মানব কল্যাণের লক্ষ্যে অবশ্যই প্যারিস চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে আসতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন পেত্তেরি। 

আগামী সপ্তাহে স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৫। অন্তত ২’শ দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে বায়ুমন্ডলের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কিত এই রিপোর্ট নীতি নির্ধারণে ক্ষেত্রে কাজে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

ইত্তেফাক/এসইউ