প্রজ্ঞা আহম্মদ জ্যোতি
বাংলাদেশের নিউজ মিডিয়াগুলোর এখন অন্যতম প্রধান খবর মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিক নির্যাতন। ইতিমধ্যে সৌদি আরবে নির্যাতিত হয়ে ৫০-এর অধিক নারী শ্রমিকের মৃতদেহ পৌঁছেছে দেশে। কেউ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে করেছেন আত্মহত্যা, আবার কেউ নির্যাতনেই মৃত্যু বরণ করেছেন। নির্যাতনের বেশির ভাগ কারণ হচ্ছে মালিকদের লালসাতে সম্মতি না দেওয়া। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের নারী শ্রমিকরা কি দাসী হিসেবে বিক্রি হয়ে পতিতাবৃত্তি করতে ওই দেশে যান? না কখনোই না। আমাদের নারীরা মায়েরা সেখানে যান কাজের খোঁজে। পরিবারের মুখে দুই মুঠো ভাত দিতে। এর পরিবর্তে তারা সেইখানে সম্মান তো দূরের কথা, শিকার হচ্ছেন ভয়াবহ নির্যাতনের। বেশির ভাগ নারীরা সেখানে যান দেশীয় দালালদের প্ররোচনায় অধিক আয়ের আশায়। যে সৌদি আরবে শ্রীলঙ্কাসহ আরো অনেক দেশ নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে, সেখানে এখনো আমাদের দেশের নারীরা গিয়ে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এই বিশাল সমস্যা নিয়ে উঁচু মহলের আরো কঠোর হতে হবে। এসব বিশাল সমস্যা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে পার পাওয়া যায় না, প্রয়োজন প্রতিশ্রুতি পূরণের।
বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার সময় একজন লোককে কিছুদিন পরপর একটা ইস্যু নিয়েই ভিক্ষা করতে দেখতাম। এসেই বলতো একজন গরিব লোক মারা গেছে কাফনের কাপড় কেনার টাকা নেই, যদি কিছু সাহায্য করতেন। জানি লোকটা ফ্রড, মিথ্যা বলে ভিক্ষা করছে। কিন্তু কেন করছে?
ইদানীং মানুষগুলো যেন কেমন অনুভূতিহীন হয়ে পড়ছে। এভাবেই মিথ্যা এবং অত্যাচারের জগতে বেঁচে থেকে একদিন মরে যাওয়াকেই তারা মেনে নিয়েছে। প্রতিশ্রুতির কথা শুনলে তারা হাসে। টঙের চায়ের দোকানের আড্ডায় তারা বলে এমন কত প্রতিশ্রুতিই তো দেখি এবং দেখতে থাকব আজীবন। তাই তারা বেঁচে থাকার তাগিদে মিথ্যা বলে ভিক্ষা করে, আর আমাদের মায়েরা ঝুঁকি নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতনের কথা জেনেও জীবন বাঁচার তাগিদে পরের দেশে যান।
আসুন অহেতুক প্রতিশ্রুতি না দিয়ে সবাই কর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ি, বাড়ুক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং দেশীয় কর্মসংস্থান।
n লেখক :শিক্ষার্থী, নাট্যকলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়