মির্জাপুরে ইউপি চেয়ারম্যানসহ পাঁচ জন গ্রেফতার

মির্জাপুরে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ছাত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিদের বাঁচাতে ঢাল হয়ে দাঁড়ানো ও ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার জেলা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও মির্জাপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। একই সঙ্গে ঐ ছাত্রীর পরিবারকে             গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকা থেকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতার পাঁচ জন হলেন—ছাত্রী গণধর্ষণের মূলহোতা আতিকুল ইসলাম সিকদারের বখাটে ছেলে রাকিবুর ইসলাম সিকদার রাকিব, রফিকুল ইসলাম সিকদারের বখাটে ছেলে সোহানুর রহমান সোহান সিকদার, ধর্ষণকারী জসিমের পিতা ইয়াকুব আলী, বখাটে রাকিবের পিতা ও বংশাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি এবং টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১-এর তিন বারের পরিচালক ও আজগানা ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আতিকুল ইসলাম সিকদার এবং বখাটে সোহানুর রহমান সোহান সিকদারের পিতা ও আজগানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সিকদার। ধর্ষণকারী অন্য আসামি মো. জসিমকে পুলিশ গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি। মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ভিকটিম ও তার পরিবারকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীকে বখাটেরা তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। ঐ ছাত্রী কোনো হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে না পেরে আশ্রয় নিয়েছিল তার মামার বাড়ি। ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও ধর্ষণকারীদের পরিবার ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় আইনের আশ্রয় নিতে পারছিল না। এ বিষয়ে গতকাল ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশ পেলে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় পুলিশ।