বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

স্ক্রিপ্ট রাইটিংয়ে সেরা

  মো. নাবিল তাহমিদ রুশদ

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই স্টেজে উঠে অভিনয় করার প্রচণ্ড আগ্রহ তৈরি হয় রাফাত হাসানের। একের পর এক অভিনয় করে ক্যাম্পাসের সব শিক্ষার্থীদের মনে জায়গা করে নেয় রাফাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চে অভিনয় করলেও ক্যাম্পাসের বাইরে কোনো মঞ্চে অভিনয় করার সুযোগ না হওয়ায় একটা অপূর্ণতা রয়ে গিয়েছিল তার মধ্যে। এরপর কিছু দিন আগে হঠাত্ই সুযোগ এলো নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি কর্তৃক আয়োজিত ল্যাংগুয়েজ লিগ-২০১৯-এর স্ক্রিপ্ট লেখার সুযোগ। এরপরের ঘটনাটা স্বপ্নের মতো। রাফাত ও তার দুই বন্ধু মিলে লিখল স্ক্রিপ্ট। নিজেদের স্ক্রিপ্ট সিলেক্টেড হলো আর সেই স্ক্রিপ্টের ওপর নাটক মঞ্চস্থ করে দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে হয়ে গেল ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন। শুধু রাফাতের ‘বাউএলসি অরবিট’ (সিনিয়র) না বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি দল ‘বাউ ফেভিয়ান’ (জুনিয়র) দেশের ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগীদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ ছিনিয়ে আনে।

নর্থ সাউথের ডিপার্টমেন্ট অব ইংলিশ ও মডার্ন ল্যাংগুয়েজেসের সদস্যরা ল্যাংগুয়েজ লীগে বাকৃবি থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। পরবর্তীতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য বাকৃবি ল্যাংগুয়েজ ক্লাবের পক্ষ থেকে সিনিয়র ও জুনিয়র টিম হিসেবে তিন সদস্যের দুটি আলাদা দল তৈরি করা হয়। ‘বাউএলসি অরবিট’ নামের সিনিয়র টিমের নেতৃত্ব দেয় পশুপালন অনুষদের রাফাত হাসান। অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ভেটেরিনারি অনুষদের সামীর আহমেদ সোহান ও কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদের আবুল বাশার বিপুল। তারা তিন জনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে ‘বাউ ফেভিয়ান’ নামের জুনিয়র টিমের নেতৃত্ব দেন পশুপালন অনুষদের নিরুপমা চারু। অন্যদের মধ্যে ছিলেন কৃষি অনুষদের তিয়াস সাহা ও ভেটেরিনারি অনুষদের সিসিলিয়া সিসো রাজু। তারা তিন জনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।

স্ক্রিপ্ট লেখা প্রতিযোগিতায় দেশ সেরা হওয়ার পেছনের গল্প করতে গিয়ে রাফাত হাসান বলেন, ল্যাংগুয়েজ লীগের স্ক্রিপ্ট লেখা প্রতিযোগিতার কথা জেনে মনে হলো এই সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ। সেই প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে অংশ নিতে যেন মন আনচান করছিল। ‘আমরা দুই টিমই কোমড় বেঁধে অনুশীলন করা শুরু করলাম। এর পর আসে সেই প্রতিযোগিতার মুহূর্ত। দিনটা সুন্দর ছিল। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসটাও বেশ সুন্দর। সেখানকার একটি নির্দিষ্ট রুমে আমাদের স্ক্রিপ্ট লেখার প্রথমপর্যায় অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের ৪৫ মিনিট সময় বেঁধে দেওয়া হয়, যেখানে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর লিখতে হবে একটি ১০ মিনিটের নাটিকা। এর পর আমরা লিখতে শুরু করলাম। ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে সঙ্গে হাতের কলম চলতে থাকল। বুকের ভেতরের কম্পনটা অনুভব করছিলাম কিন্তু শেষমেশ ঠান্ডা মাথায় সম্পূর্ণ স্ক্রিপ্ট লেখা শেষ করি।’

‘পরের দিন আমাদের জানানো হয়, আমরা সিলেক্টেড হয়েছি এবং আমাদের নাটক মঞ্চস্থ করতে হবে। আমরা সঠিক সময়ে চলে গেলাম সেখানে। তিনটি দলের পরেই ছিল আমাদের পালা। আমরা গেলাম, নাটক প্রদর্শন করলাম এবং সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় সেখানে উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে আমাদের গ্রহণ করলেন। পারফর্ম করার সময় তেমন টেনশন কাজ না করলেও ফলাফল ঘোষণার আগ মুহূর্তে বুকের ভেতর একটা আশা পাচ্ছিলাম। হয় এবার হবে নয়তো আর কখনো হবে না! তার পরের গল্পটা অনেকটা রূপকথার মতো। আমাদের নাম ঘোষণা করা হলো। আমরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগীদের পাশ কাটিয়ে প্রথম হয়েছি। আমার সহজে চোখে পানি আসে না। কিন্তু বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাসে সেদিন চোখের জলটা ধরে রাখতে পারিনি।’

নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারাটাই অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার। সেখানে প্রথম স্থান অধিকার করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা আছে। এছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাংগুয়েজ ক্লাবের পক্ষ থেকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের। আশা রাখি আমাদের এ সফলতা অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করবে।