মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক
একজন নারী হয়ে উঠেছেন কিষানি। মাঠে মাঠে দৌড়াচ্ছেন আর দেখিয়ে দিচ্ছেন নারীরাও পারেন। মানুষের কোনো কথার দিকে না তাকিয়ে কাজ করেছেন আপন মনে। এ বছর স্টান্ডার্ড চ্যাটার্ড ব্যাংক অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ডে বর্ষসেরা নারী কৃষি উদ্যোক্তার পুরস্কার পেলেন নারী কৃষি উদ্যোক্তাদের একজন পথপ্রদর্শক রাজিয়া সুলতানা।
তার জন্ম ঢাকার দক্ষিণখানে, বেড়ে উঠেছেন সেখানেই। মোল্লারটেক স্কুলে এসএসসি এবং সরদার নুরুজ্জামান মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন তিনি। তাদের বাড়ির পাশে পতিত জমিতে তার বাবা গাছপালা লাগাতেন, পালন করতেন গৃহপালিত পশুপাখিও। সেই থেকেই তার কৃষিকাজের হাতেখড়ি। কিছুদিন চাকরি করলেও তাতে তার মন টানেনি।
২০১৩ সালে তিনি উত্তরায় একটি বুটিক সপ করেন। কিন্তু স্বামীর চাকরির সুবাদে তাকে চলে যেতে হয় ময়মনসিংহ। সেখানেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন কৃষিকাজ। হাঁস পালনের মাধ্যমে এই কাজ শুরু করেন তিনি। ২০১৬ সালে তাকে একই কারণে চলে যেতে হয় সিলেটে। সেখানে নার্সারি গড়ে তোলেন তিনি।
বর্তমানে তার আশুলিয়ায় একটি খামার রয়েছে। যেখানে গরু মোটা তাজাকরণের কাজ হয়। সেগুলো কোরবানির সময় বিক্রি করে থাকেন তিনি। মানিকগঞ্জের ধল্লায় তার আরেকটি খামার রয়েছে, যেখানে ক্যাপসিকাম, ব্রকলিসহ নানা ধরনের সবজির চাষ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি ঢাকায়ই অবস্থান করছেন আর নিয়ন্ত্রণ করছেন সব কর্মকাণ্ড। এর আগে তিনি সোনারং তরুছায়া কৃষি উদ্যোক্তা পুরস্কার পেয়েছেন। আইকন হিসেবে ছিলেন চ্যানেল আইয়ের কৃষকের ঈদ অনুষ্ঠানে। তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে চলার পথে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তার সবচেয়ে বড়ো অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন বাংলাদেশের কৃষিজগতের আইকন শাইখ সিরাজ।
তিনি স্বপ্ন দেখেন কৃষিতে আরো এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। কৃষক পাবে তার ন্যায্যমূল্য। নারীরাও এগিয়ে আসবেন কৃষিকাজে। শুধু কৃষিকাজ নয়, নারীরা তাদের যোগ্যতা দিয়ে প্রমাণ করবেন তারাও পারেন।
কৃষিকাজ ছাড়াও আরো একটি বিষয়ে তার দক্ষতা রয়েছে। তিনি আর্টিফিশিয়াল জুয়েলারির ওপরে ডিপ্লোমা করেছেন। নারীদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েও থাকেন তিনি। তিনি বলেন, মেয়েরা শুধু চাকরির দিকে মুখিয়ে থাকবেন না, নিজেই মানুষের চাকরি করার সুযোগ তৈরি করবেন।