ইতিবাচক তুষার

>>  মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

 

মনে প্রাণে তার বাংলাদেশ। দেশ, মা, মাটি মানুষের প্রতি তার অসম্ভব টান। থাকেন সুদূর লেবানন। তাতে কী, সেখানে বসেই দেশের সব ভালো দিক তুলে ধরেন। স্যোশাল মিডিয়ার তার পোস্টগুলো দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। যা অন্যদের অনুপ্রেরণা দেয়, প্রয়োজনীয় তথ্য সরবারহ করে। দেশের কারো কোনো ভালো উদ্যোগ, সফলতা যেটাই হোক—কিছুই তার চোখ এড়ায় না, খুঁজে বের করে তুলে ধরেন, পোস্ট শেয়ার করেন। বিশ্ব পর্যটক এলিজা বিনতে এলাহীর কথাই ধরা যাক। তাকে সর্বপ্রথম ফেসবুকে তুলে ধরেছেন তিনি। এলিজা বলেন, ‘আমি নিজেকে নিয়ে এত সচেতন ছিলাম না। আমার ৪১ দেশ ভ্রমণের পর তিনি আমাকে নিয়ে প্রথম ফেসবুকে পোস্ট দেন। আমি তাকে চিনতাম না, ফেসবুকে তিনি আমাকে খুঁজে বের করেছেন। তিনি ছোট-বড়ো সবাইকে অনুপ্রেরণা দেন।’ এলিজা যার কথা বলেছেন, তিনি হলেন জুবায়ের কবির তুষার। ফেসবুকে তার আইডির নাম তুষার কবির ডিএইচকে। কনস্যুলার সহকারী, বাংলাদেশ হাই কশিশন, বৈরুত, লেবানন হিসাবে বাংলাদেশ দূতাবাস বৈরুতে কর্মরত আছেন তিনি। তাও প্রায় পাঁচ বছর। ইতিবাচক সবকিছুতেই তুষারের আগ্রহ। ফেসবুক ইনফোতে তিনি লিখেছেন, ‘পরাজয়ে ডরে না বীর, বিজয় না হওয়া পর্যন্ত লড়ো। বুকে থাকুক বাংলাদেশ।’ তার চিন্তা চেতনায় এক টুকরো পজিটিভ বাংলাদেশ। কোনো সময়ই তাকে নৈরাশ্যবাদী বা নেগেটিভ পোস্ট দিতে দেখা যায়নি। দেশ-বিদেশে যাই ঘটুক, অনেক সময় তুষারের পোস্ট থেকে তা দ্রুত জানা যায়। অন্যদের অনুপ্রেরণা দিতে তার জুড়ি নেই। যারা একদম হতাশ, কোনো কিছুতেই আশা খুঁজে পান না। তারা তুষারের পোস্টে আশা খুঁজে পান। এ রকমই একজন ইভা রহমান। তিনি বলেন, ‘তুষার ভাইয়ের পোস্টগুলো পজিটিভ তো বটেই। পাশপাশি মানুষকে আশাবাদী করে তোলে। তার পোস্ট পড়ে অনুপ্রাণিত হই।’ নিজে প্রবাসী বলেই নয়, প্রবাসীদের দুঃখ-কষ্ট তুষারকে ছুঁঁয়ে যায়। সে কারণেই বিভিন্ন সময় প্রবাসীর দুঃখ-কষ্টের কথাও তার পোস্টে পাওয়া যায়। শুধু রাষ্ট্র, সংস্থা, প্রতিষ্ঠানের ভালো পজিটিভ কাজ নয়। ব্যক্তির ভালো কাজও তুষায় সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেন। ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই টগবগে তরুণ জুবায়ের কবির তুষারের হাত ধরে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। জুবায়েরের সঙ্গে তখন ছিলেন সৈয়দ মুনির, আসলাম হোসেন, হুর এ জান্নাত প্রমুখ। লেখকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে নুহাশ পল্লীতে জড়ো হয়েছিলেন তারা, সেখানেই তুষার হিমু পরিবহন গঠনের কথা তোলেন। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সবাই তার সঙ্গে একমত হন। ফেসবুকে পেজ খোলা হয়। এভাবেই শুরু হিমু পরিবহনের। বিদেশে থেকে তুষার হিমু পবিহনের কাজে উত্সাহ, অনুপ্রেরণা জোগান। বিখ্যাত ভ্রমণকন্যা সমাজকর্মী সাকিয়া হক বলেন, ‘তুষার ভাই একজন অনুপ্রেরণাদানকারী। তিনি ট্রাভেলেটসের কমিটি মেম্বার। আমাদের ভ্রমণকন্যা সংগঠন শুরুর পিছনে তার অনেক মোটিভেশন ছিল। তিনি অসম্ভবকে সম্ভব করতে শেখান।’