‘পশ্চিমবঙ্গের সব উদ্বাস্তু কলোনিতেই দেওয়া হবে জমির মালিকানা’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারের জমিতে গড়ে ওঠা উদ্বাস্তু কলোনির বাসিন্দাদের জমির মালিকানা আগেই দিয়েছে রাজ্য। এবার কেন্দ্রীয় সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানার জমিতে গড়ে ওঠা উদ্বাস্তু কলোনির বাসিন্দাদের জমির ‘ফ্রি-হোল্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। সোমবার নবান্নে এ কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। সরকারি সূত্রের দাবি, এর ফলে প্রায় ২৬ হাজার পরিবারের দেড় লাখ  মানুষ উপকৃত হবেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার

মাস দুই আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি জমিতে থাকা ৯৪টি উদ্বাস্তু কলোনির জমির জট কাটানো হয়েছিল। প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার পরিবারকে জমির মালিকানা (ফ্রি হোল্ড টাইটেল ডিড) দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তখন থেকেই কেন্দ্র ও ব্যক্তিগত জমির কলোনিগুলোর বাসিন্দাদের কীভাবে জমির মালিকানা দেওয়া যায়, তা নিয়ে বিচার-বিবেচনা করছিল সরকার। কারণ, কেন্দ্র বা ব্যক্তিমালিকরা সরকারের হাতে জমি তুলে না দিলে রাজ্য তা উদ্বাস্তুদের নামে রেকর্ড করে দিতে পারে না।

এর মধ্যেই লোকসভা চলতি অধিবেশনে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আনার কথা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে উদ্বাস্তুদের সমস্যা সুরাহা করতে তত্পর হয়ে ওঠে ভূমি দপ্তরও। সেই সূত্রেই এ দিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, কেন্দ্র বা ব্যক্তিমালিকদের কাছ থেকে জমি পাওয়ার জন্য রাজ্য আর অপেক্ষা করবে না। যারা গত ৪০ বছর ধরে কলোনির জমি ভোগদখল করছেন, তাদের মালিকানা দিয়ে দেবে ভূমি দপ্তর। দপ্তরের হিসেব, এ রকম কেন্দ্রীয় সরকারি জমির পরিমাণ প্রায় ৯৭৩ একর ও ব্যক্তিমালিকানার জমি রয়েছে আনুমানিক ১১৯ একর।

ভূমিকর্তারা জানান, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে যারা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, চলতি নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী তারা উদ্বাস্তু হিসেবে বিবেচিত হন।