পর্দা নামল আন্তর্জাতিক নাচের উত্সব ওশান ড্যান্স ফেস্টিভ্যালের

দেশি-বিদেশি নানা নৃত্যে সৈকতের বালিয়াড়ি মাতিয়ে বাংলাদেশে নৃত্যচর্চা ও গবেষণায় গুরুত্বারোপ করে পর্দা নামল আন্তর্জাতিক নৃত্য উত্সব ওশান ড্যান্স ফেস্টিভ্যালের। ওয়ার্ল্ড ড্যান্স অ্যালায়েন্স, এশিয়া প্যাসিফিকের (ডব্লিউডিএ, এপি) বাংলাদেশ শাখা নৃত্যযোগের উদ্যোগে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ উত্সবে কক্সবাজারে মঞ্চস্থ হলো আলীবাবা চল্লিশ চোরের কাহিনি নিয়ে নৃত্যনাট্য বাদী-বান্দার রূপকথা।

উত্সবের শেষ দিন গত সোমবার বেশ কয়েকটি সেমিনারে অংশ নেন দেশ-বিদেশের গবেষকেরা। ওশান ড্যান্স ফেস্টিভ্যালের প্রধান কিউরেটর লুবনা মারিয়াম বলেন, সবাইকে মঞ্চে নাচ করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। এটি আমি বুঝেছি অনেক বছর পর। তরুণদের তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, এখনই ঠিক করে নাও তোমরা কী করবে, নাচ না গবেষণা, নাকি নৃত্য সংশ্লিষ্ট অন্য কিছু।

সম্পূর্ণতা শিরোনামে এক ধারণাপত্রে সোহিনী চক্রবর্তী কথা বলেন ড্যান্স থেরাপি নিয়ে। সাবিহা ভাসেল কথা বলেন বয়স্ক মানুষদের নিঃসঙ্গতা দূর করতে ড্যান্স থেরাপির কার্যকারিতা নিয়ে। পেঁচাকুচা নামের এক অধিবেশনে দুই জন তরুণ নৃত্যশিল্পী ভাগাভাগি করেন তাদের নৃত্যে আসা ও টিকে থাকার অভিজ্ঞতা। নাচ শিখতে আসা বেশিরভাগ শিশু কীভাবে ঝরে পড়ে, বঞ্চিত হয় নৃত্যের মূল আনন্দ থেকে, এসব নিয়েও আলোচনা হয় সেখানে। মঞ্জুলিকা তারা এক কর্মশালায় নাচ নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখি সংক্রান্ত নানা ধারণা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। গত সন্ধ্যায় কক্সকার্নিভাল মিলনায়তনে তাইওয়ানের সুট-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিয়া ইয়ু সু পরিবেশন করেন ‘ব্লোসম’, হংকংয়ের ওয়েই মিং প্যাকের ‘টয়লেট পাম্প’, ভারতের সুমেধা ভট্টাচার্যের ‘সি দ্য সাউন্ড’, যুক্তরাষ্ট্রের মেগান থমসনের থ্রেসহোল্ডস ক্রসড রিকনসিডারেশন, বাংলাদেশের শাম্মি আখতারের ‘মাইন’, সাধনা ও নাইম খান ড্যান্স কোম্পানির ‘আলট্রাভায়োলেট’, ইয়াসিন আরাফাতের ‘ডেমোক্রেসি’, ভারত ও বাংলাদেশের শিল্পী অনীল কুমার সিং ও মোফাস্সাল আলিফের ‘আই অ্যান্ড মাইসেল্ফ’ নৃত্য।

আন্তর্জাতিকভাবে নির্বাচিত এ পরিবেশনাগুলোর পর ছিল সৃষ্টি কালচারাল সেন্টারের নৃত্যনাট্য বাদী-বান্দার রূপকথা। সন্ধ্যায় শুরুতেই ছিল ‘স্কাই ড্যান্স’ নামের একটি ড্যান্স চলচ্চিত্রের ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, আগামী দিনেও আমরা এ ধরনের উত্সবের সঙ্গে থাকতে চাই। অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল। গত ২২ নভেম্বর কক্সবাজারে শুরু হওয়া উত্সবের উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।