বরিশাল বিআরটিএ অফিসে নেই পর্যাপ্ত জনবল ও কক্ষ

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির বরিশাল কার্যালয়ে ভিড় বেড়েছে। বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় বিআরটিএর দপ্তরে প্রতিদিন সকল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপচে পড়া ভিড় লেগেই থাকে। আগতের বেশির ভাগই যানবাহনের চালক। এ কার্যালয়ে জনবল সংকট থাকায় চালকের লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনসহ গাড়ির যাবতীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। মাত্র ২টি কক্ষ নিয়ে বিআরটিএর কার্যক্রম। সেবা প্রত্যাশীদের অবাধ যাতায়াতের কক্ষ হলো সহকারী পরিচালক মো. আতিক এর কক্ষটি। ঐ কক্ষটিতে অফিস সহকারীসহ অন্যরাও বসেন। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে গিয়ে শতাধিক সেবা প্রত্যাশীকে অপেক্ষমাণ দেখে গেছে। বিআরটিএর কর্মকর্তারা জানান, নতুন সড়ক আইনে মোটা অঙ্কের জরিমানা ও শাস্তি থেকে বাঁচতে গাড়িচালক ও মালিকদের এহেন দৌড়ঝাঁপ দেখা গেছে। সীমিত জনবল দিয়ে যথাযথ সার্ভিস তো দূরে থাক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স দিতে পারছে না বলে স্বীকার করেন কর্মকর্তারা। আর এ সুযোগে দালালরাও হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চিহ্নিত দালাল বিআরটিএ দপ্তরে কর্মরতদের সঙ্গে সখ্যতা দেখিয়ে কাজ হাসিল করছেন। এমনকি কর্তব্যরতদেরকে রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে চাপে রেখে কাজ হাসিলের জন্য চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন কর্মরতরা। ভুক্তভোগীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে সিরিয়াল না পেলেও দালালদের মাধ্যমে যারা করাচ্ছেন তারা সকল স্থানেই সিরিয়াল আগে পাচ্ছেন। ফলে প্রায় ১০/১৫ জনের দালাল চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সেবা নিতে আসা মানুষরা।  এ ব্যাপারে বরিশাল বিআরটিএ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আতিক বলেন, দালাল কে আমরা তো চিনি না তবে নানান পরিচয় দিয়ে অনেকেই আসে সুবিধা নেওয়ার         জন্য। সেক্ষেত্রেও আমরা সিস্টেম ভঙ্গ করি না। সহকারী পরিচালক বলেন আমাদের জনবল সংকটও রয়েছে। যে কারণে যথাযথ নিয়ম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ২০টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছে ১২ জন। পাশাপাশি অফিস কক্ষও অপর্যাপ্ত। তিনি জানান, অফিসের জন্য নতুন জায়গা নির্ধারণ হয়েছে। সেখানে ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিআরটিএ বরিশাল কার্যালয় সূত্র জানায়, গত কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন চার শতাধিক আবেদন জমা হয় চালক লাইসেন্স পেতে। এর বেশির ভাগই মোটরসাইকেল ও থ্রিহুইলারের লাইসেন্সের আবেদন। শিক্ষানবিশ চালক লাইসেন্স আবেদনকারী সাব্বির হোসেন বলেন, দুই দিন ধরে দীর্ঘক্ষণ সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে গেছেন। এ আবেদনকারী অভিযোগ করেন তিনি বারবার এসে ফিরে গেলেও বাড়তি টাকা দিয়ে দালালদের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নিচ্ছেন অনেকেই। তাকে বাড়তি টাকার কথা বলা হলেও তিনি রাজি না হওয়ায় সিরিয়াল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।