বিরামপুরে সদ্য সমাপ্ত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার খাতা শিশুদের দ্বারা মূল্যায়ন করার অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন সোমবার ১০০ খাতা জব্দ করে থানায় জমা দেওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের নিকট থাকা ১৫০টি খাতা জব্দ করে নিয়ে যান, যেগুলো দেখে নম্বর দিয়েছিল প্রতিবেশী দুই শিশু।
জানা গেছে, বিরামপুর পৌর শহরের আদর্শ স্কুল পাড়ার বাসিন্দা ফুলবাড়ি উপজেলার জয়নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সাহানুর রহমান সদ্য সমাপ্ত জেএসসি পরীক্ষার ২৫০টি খাতা মূল্যায়নের জন্য দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড থেকে গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি সবগুলো খাতা প্রতিবেশী জিয়াউর রহমানের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। জিয়াউরের স্ত্রী দিলরুবা বেগম জানান, ২৫০টির মধ্যে ইতিমধ্যে ১৫০টি খাতা দেখেছে তার জেএসসি পরীক্ষা দেওয়া পুত্র অনিক ও নার্সারী পড়ুয়া শিশুপুত্র আবরার। আবরার উত্তরপত্রের সঙ্গে এমসিকিউ অংশ মিলিয়ে মিলিয়ে নম্বর দিয়েছে। আর অনিক লিখিত অংশ দেখেছে। অবশিষ্ট ১০০টি খাতা সোমবার নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে গোপন সূত্রে এ খবর পাওয়ার পর বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নূর আলম ও যুব উন্নয়ন অফিসার জামিল উদ্দিন পুলিশ নিয়ে এসে জিয়াউরের বাড়ি থেকে ১০০টি খাতা জব্দ করে নিয়ে থানায় জমা দেন।
পরীক্ষার খাতা শিক্ষক নিজে না দেখে ‘ঠিকাদারি’ দেওয়ার এবং দুই শিশু শিক্ষার্থী খাতাগুলো দেখে নম্বর দিয়েছে এমন খবর জানাজানি হওয়ার পর গোটা এলাকার অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান ও উপসচিব ড. আব্দুর রাজ্জাক গতকাল খাতা উদ্ধারস্থল পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত গ্রহণ করেন। এসময় তিনি অভিযুক্ত শিক্ষক সাহানুর রহমানের হেফাজতে থাকা শিশু দ্বারা মুল্যায়নকৃত ১৫০টি খাতা জব্দ করে নিয়ে যান। তোফাজ্জুর সাংবাদিকদের বলেন, খাতাগুলো অন্য কোনো শিক্ষক দ্বারা পুনঃমূল্যায়ন করে যোগ্যতার ভিত্তিতেই নম্বর প্রদান করা হবে। এতে যথসময়ে ফল প্রকাশে ও সঠিক নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের আর দুশ্চিন্তা থাকবে না। তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে থানায় নিয়মিত মামলা করা হবে।