নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে ওষুধ প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য কমছে না

রোগীদের চিকিত্সায় ব্যাঘাত

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের দুইটি বৃহত্ সরকারি হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্যে রোগীদের চিকিত্সাসেবায় দারুণ ব্যাঘাত ঘটছে। শহরের ৩০০ শয্যা ও ১০০ শয্যা হাসপাতালে একদিকে রোগী আসে, অন্যদিকে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা এসে ভিড় জমায়। চিকিত্সকের কক্ষের সামনে রোগীদের সিরিয়ালের পাশেই তারা জোটবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। নিজেদের কাজের প্রয়োজনে হাসপাতালের নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রেসক্রিপশন দেখতে চেয়ে রোগীদের বিরক্ত করে। রোগীরা একাধিকবার হাসপাতালে এ ব্যাপারে অভিযোগ করলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। একই চিত্র নগরের অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও।

সরেজমিনে নগরের হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে দেখা যায়, সেখানে রোগীদের চারপাশে মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভদের ছড়াছড়ি। হাসপাতালের বহির্বিভাগে ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাদের আড্ডা চলে। রোগীরা ডাক্তারের কক্ষ থেকে বের হতেই চার-পাঁচ জন তাদের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে। রোগীদের প্রেসক্রিপশনের ওষুধের বিবরণ জানতে, প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলতে রোগীদের প্রচণ্ড বিরক্ত করে তারা। রোগীদের রোগের বিবরণ জেনে চিকিত্সকদের নিজেদের কোম্পানির ওষুধ দেওয়ার সুপারিশ করে তারা। সরকারি হাসপাতালে রোগী দেখার সময়ে তারা গিয়ে চিকিত্সকদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে। সরকারি হাসপাতালে মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভদের সপ্তাহে দুই দিন বেলা ১টার পরে চিকিত্সকদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করার সময়; কিন্তু সকাল থেকেই হাসপাতালে ভিড় করে তারা। গত ২০ নভেম্বর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভরা নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে চিকিত্সকের কক্ষে প্রবেশ করতে চাইলে হাসপাতালের কর্মচারীরা বাধা দেয়। পরবর্তী সময়ে এই ঘটনায় মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ ও হাসপাতালের কর্মচারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় তাদের এক সপ্তাহ চিকিত্সকদের সঙ্গে সাক্ষাত্ নিষিদ্ধ করে দেয়। ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিত্সকদের সঙ্গে সাক্ষাত্ নিষিদ্ধ হওয়ায় ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভিড় করে তারা।