নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে

সমাজে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। সহিংসতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করতে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালন করা হচ্ছে। সমাজে নারীর ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা বিশেষ করে শিশু ও তরুণী নারীদের যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যার মতো ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। বিভিন্ন দেশে অভিবাসী নারী শ্রমিকরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এসব বিষয় সমাজের মধ্যে নানা ধরনের উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতি তৈরি করছে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালন উপলক্ষ্যে ১ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এ বছর আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষের প্রতিপাদ্য—‘প্রজন্ম সমতা : ধর্ষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান’-এর আলোকে পরিষদ ‘ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, আসুন এ অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই’—এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে তারা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছে। এই পক্ষের উদ্দেশ্য জাতি-ধর্ম এবং বর্ণ নির্বিশেষে নারী-পুরুষ সবাইর মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে নারী ও কন্যাশিশুর জন্য একটি নিরাপদ পরিবার, নিরাপদ সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। 

অবস্থান কর্মসূচিতে সংগঠনের সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম বলেন, বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার মূলে রয়েছে মনস্তত্ত্ব, পিতৃতন্ত্র ও বৈষম্যমূলক আইন। সংগঠনের সদস্য অঞ্জনা রায় বলেন, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা বলেন, সামাজিক অবক্ষয়ের সঙ্গে সঙ্গে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করতে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, জজ কোর্ট ও গণপরিবহনগুলোতে লিফলেট বিতরণ করা হয়। অবস্থান কর্মসূচিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক অ্যাডভোকেট মাকছুদা আখতার, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট দীপ্তি সিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।