নিরপরাধ সাইফুল ও শাওনের পরিবার ক্ষতিপূরণ পায়নি

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার সাড়ে তিন বছরের মধ্যে কেউ ঐ ঘটনায় নিহত নিরপরাধ সাইফুল ও শাওনের পরিবারের খোঁজ নেয়নি। জঙ্গি হামলার পর কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হন। কিন্তু এর সঙ্গে আরো একজনকে যোগ করে বলা হয়েছিল ছয় জঙ্গি নিহত হয়েছে। ঐ ব্যক্তিটি হলেন—হলি আর্টিজানের শেফ সাইফুল ইসলাম চৌকিদার। নিহত পাঁচ জঙ্গির সঙ্গে তার লাশটিও জুরাইন কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসাবে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি সিটিটিসি তদন্ত করে সাইফুলের সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পায়নি।

সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের পরিবার বর্তমানে শরিয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কলুকাঠি গ্রামে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কেউ তার পরিবারের খোঁজ নেয়নি। চরম দুরবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে আর্টিজানের ডিশ ক্লিনার নিহত জাকির হোসেন শাওনের পরিবারও। ২০১৬ সালের ৮ জুলাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান শাওন। পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশাসনের লোকজন শাওনকে জঙ্গি সন্দেহে আটক করে পিটিয়ে হত্যা করেছে। শাওনের বিরুদ্ধে কোনো জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পায়নি হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

গতকাল সিদ্ধিরগঞ্জের নয়াপাড়ার তাদের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, এক রুমের বাসা নিয়ে ভাড়া থাকেন শাওনের পরিবার। সে রুমেই থাকেন তার মা, বাবা, বোন ও আরো দুই ভাই। মায়ের পিঠা বিক্রির টাকা আর বোনের গার্মেন্টসের চাকরির আয়ে এখন সংসার চলে।