তামিম চৌধুরীর নেতৃত্বে হলি আর্টিজানে হামলা: আদালতের পর্যবেক্ষণ

হলি আর্টিজান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী ছিলেন নব্য জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা তামিম চৌধুরী। তার নেতৃত্বে রাজধানী ঢাকার গুলশানের ওই বেকারিতে নারকীয় হামলার ঘটনা ঘটে। 

 

আজ বুধবার আলোচিত এই মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইবুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ কথা বলেন।

 

রায়ে বিচারক আরো বলেন,  বাংলাদেশে তথাকথিত জিহাদ কায়েমের লক্ষ্যে জননিরাপত্তা বিঘ্ন, জনমনে আতঙ্ক তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই তামিম চৌধুরীর পরিকল্পনায় নব্য জেএমবির সদস্যরা হলি আর্টিজানে নিষ্ঠুর ও নিমর্ম গ্রেনেড হামলা চালায়। একই সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়েও হামলা চালায়।


বহুল আলোচিত গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলা মামলায় সাত জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়াও প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়।

 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো : হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবির নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। আট আসামির মধ্যে নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড়ো মিজানকে খালাস দিয়েছে আদালত। রায় পড়ার সময় সব আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিচারক রায় ঘোষণার জন্য ২৭ নভেম্বর নির্ধারণ করেন। এ পর্যন্ত মোট ১১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। একই বছরের ২৩ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের জিআর শাখায় মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ২৬ জুলাই সিএমএম আদালত মামলাটি ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেয়।

অভিযোগপত্রে নাম থাকা ২১ আসামির মধ্যে ১৩ জন মারা যাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। নিহত ১৩ জনের মধ্যে আট জন বিভিন্ন অভিযানে এবং পাঁচ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়।

ইত্তেফাক/এএম