পটুয়াখালী প্রতিনিধি
উদ্বোধনের ছয় বছরেও চালু হয়নি পটুয়াখালী নদী ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম। ভবনসহ অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জনবল। কিন্তু অগ্নিনির্বাপক নৌযানসহ সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়নি এখনো। এ অবস্থায় নিয়োগকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এক রকম বসে আছেন।
দেশের সর্বদক্ষিণে নদী ও সাগর বেষ্টিত জেলা পটুয়াখালী। এই জেলার অনেক এলাকা রয়েছে যেসকল স্থানের লোকালয় ও হাটবাজারে সড়কপথে দ্রুত পৌঁছা সম্ভব হয় না। সেসকল জায়গায় কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যেতে না পারায় স্থানীয়ভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালানো ছাড়া কোনো গত্যন্তর থাকে না। সম্প্রতি গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাদুরা বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৯টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। এই অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতি কমিয়ে আনতে জেলা শহরে এই নদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করা হয়।
গণপূর্ত অধিদপ্তর পটুয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় বছর আগে জেলা শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে লাউকাঠী নদীর পাড়ে নির্মাণ করা হয় নদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্ব্বাবধানে নির্মাণ করা হয় ভবন। নদী তীরে অগ্নিনির্বাপক নৌযান ও রিভার অ্যাম্বুলেন্স নোঙর করার জন্য স্থাপন করা হয় পন্টুন ও জেটি। ২০১৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী নদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উদ্বোধন করা হয়।
নদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে জানান, এই স্টেশনের জন্য ১৩ জন লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন—স্টেশন কর্মকর্তা, লিডার, আট জন ফায়ারম্যান ও অন্যান্য পদে আরো তিন জন কর্মচারী। তবে অগ্নিনির্বাপক জাহাজ, রিভার অ্যাম্বুলেন্স, উদ্ধার কাজের জন্য বোট ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি এখনো সরবরাহ করা হয়নি।
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, অবকাঠামো ও জনবল আছে। অধিদপ্তর থেকে জেটি ও পন্টুন ঠিকাদারের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়েছে। অগ্নিনির্বাপক জাহাজসহ নৌযান ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি না দেওয়ায় নদী ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত রয়েছেন।