মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যার ভবন উদ্বোধনের প্রায় ৩ বছর পার হলেও তার কার্যক্রম চালু হয়নি।
জানা গেছে, ৩ একর ৮৪ শতাংশ জমির ওপর ১৯৯৬ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে নির্মিত হয়। হাসপাতালটির গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হিসেবে উদ্বোধন করা হয়। এ ব্যাপারে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো রেজাউল ইসলাম জানান, ৫০ শয্যার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকার কারণে এটি এখনো চালু হচ্ছে না।
এদিকে তিনি জানান, বর্তমানে ৩১ শয্যার ব্যবস্থায় ডাক্তার সংকটে ভুগছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। ১৯ জন চিকিত্সকসহ ২৪টি পদ থাকার কথা থাকলেও মাত্র তিন জন চিকিত্সক দিয়ে এখন চলছে চিকিত্সাসেবা। একমাত্র এক্সরে মেশিন বিকল দেড় বছর যাবত্, যে কারণে চিকিত্সা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এলাকাবাসী স্বাস্থ্যসেবা থেকে হচ্ছে বঞ্চিত। তবে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের দিকে পাঁচ থেকে সাত জন ডাক্তার মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে যোগদান করতে পারেন।
মধুখালী হাসপাতালটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন অবস্থিত হওয়ায় রোগীর সংখ্যা সব সময় বেশি থাকে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার লোকজন এর ওপর নির্ভরশীল। ৩ লক্ষাধিক জনগণের জন্য একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও তিনটি সাবসেন্টার রয়েছে এ উপজেলায়।
এদিকে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিত্সার জন্য প্রতিদিনই জেলা শহরে নেওয়ার জন্য হাসপাতালের পুরাতন অ্যাম্বুলেন্সটিই সম্বল। সেটি যে কোনো সময় বিকল হতে পারে বলে ধারণা করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, জনবল সংকট শুধু মধুখালীতে নয় গোটা ফরিদপুর জেলার সকল হাসপাতালের সমস্যা। ৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেই কার্যক্রম চালু হবে। মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খুব অল্প সময়ের মধ্যে সাত থেকে আট জন চিকিত্সক দেওয়া হবে।