ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
পেঁয়াজের ঝাঁজে যখন ক্রেতার নাভিশ্বাস, তখন কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক দরপতনে ক্রেতার স্বস্তি। অন্যদিকে পশ্চিমের জেলাগুলোতে কাঁচা মরিচের দরপতনে চাষিরা হতাশ। মঙ্গলবার ঝিনাইদহের শৈলকুপা সবজি হাটে পাইকারি প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১০-১২ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। চাষি লাভ না পেলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভ করছেন। এছাড়া যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলায় প্রতি কেজি পাইকারি ১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলায় ৬৫৫ হেক্টর, ঝিনাইদহে ৫৩৫ হেক্টর, মাগুরায় ৩০ হেক্টর, কুষ্টিয়ায় ১ হাজার ৯০৫ হেক্টর ও চুয়াডাঙ্গায় ৩২৩ হেক্টরে এ পর্যন্ত রবি মরিচ চাষ হয়েছে। শৈলকুপা হাটে আনিপুর গ্রামের চাষি আরিফ খান জানান, তার এক বিঘা জমিতে মরিচ আছে। খেতে প্রচুর মরিচ ধরেছে। মঙ্গলবার পাইকারি প্রতি কেজি মরিচ ১০ টাকা দরে বিক্রি করেন। খেত থেকে মরিচ তুলতে শ্রমিককে দিতে হয়েছে ছয় টাকা। ভ্যান ভাড়া দিয়ে হাটে এনে বিক্রির পর বলতে গেলে শূন্য হাতে ফিরতে হয়। একই রকম কথা বলেন চাষি নুরুল ইসলাম।
ব্যাপারি ছরোয়ার আলি বলেন, পাইকারি ১০ টাকা কেজি মরিচ কিনে ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। যশোরের বারিনগর সবজি হাট দেশের অন্যতম প্রধান সবজি হাট। হৈবতপুর গ্রামের চাষি ইজাজুল ইসলাম জানান, গতকাল বুধবার এ হাটে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ পাইকারি ১৩ টাকা দরে বিক্রি হয়।
মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের চাষি জিয়াউর রহমান জানান, তাদের এলাকায় পাইকারি কাঁচা মরিচ ১৫ থেকে ১৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শৈলকুপা উপজেলা কৃষি অফিসার সনজয় কুমার কুন্ডু জানান, আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় গাছে প্রচুর মরিচ ধরেছে। বাজরে মরিচের যোগান বেড়েছে। এজন্য কাঁচা মরিচের মূল্য কমে গেছে।