রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান কোথায়

মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক অত্যাচারিত ও নিপীড়িত হয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। দুই বছর ধরে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় বসবাস করে আসছে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা প্রবেশ মানবিক কারণে অনুমতি দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু গেল দুই বছরে এই সমস্যার আর কোনো কার্যকর সুরাহা হয়নি। রোহিঙ্গা সংকট এখন আন্তর্জাতিক সংকট হিসেবে অভিহিত হয়েছে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে জাতিসংঘ কর্তৃক বা আন্তর্জাতিকভাবেও কোনো সফলতা দেখা যাচ্ছে না। যে কোনো কারণে হোক বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিতে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিলেও এই সংকটের সমাধান করতে পারছে না। রিফিউজি ক্রাইসিসকে কেন্দ্র করে কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের উদ্যোগে ইয়ুথদের নিয়ে একটি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে রোহিঙ্গাদের আশা ও হতাশার কথা জানার চেষ্টা করা হয়। রোহিঙ্গারা তাদের ভবিষ্যত্ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে, তাদের শিক্ষাজীবন থেমে গেছে। তারা হারিয়েছে তাদের কর্মসংস্থান খুঁজে নেওয়ার ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার। বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য সাহায্য সংস্থা তাদের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে পারলেও তাদের রাজনৈতিক অধিকার দিতে সম্পূর্ণ অক্ষম। এই আধুনিক বিশ্বে রাজনৈতিক অধিকার ছাড়া পরিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকা যায় না। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী পরিচয়ের সংকট এবং ভবিষ্যত্ সম্পর্কে অনিশ্চয়তাসহ নানা রকম অনিশ্চয়তায় ভুগছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অবলোকন করলে দেখা যায় যে রোহিঙ্গারা বর্তমানে কক্সবাজারের যে অংশে বসবাস করছে, সেটি আমাদের অন্যতম উপকূল এবং প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত এলাকা। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে গিয়ে ব্যাপকভাবে বন ও পাহাড় ধ্বংস করতে হয়েছে। এতে পরিবেশদূষণের কারণে আমাদের পরিবেশগত ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন এনজি ও এর সহায়তায় ক্যাম্পের পরিবেশ প্রতিনিয়ত উন্নত করার চেষ্টা চলছে। রোহিঙ্গা সংকটের কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠী নানা রকম সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। স্থানীয় বাজারে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যবৃদ্ধি, পরিচয়ের সংকটসহ স্থানীয় জনগণ বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করছেন। তাই রোহিঙ্গা অভিবাসীদের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন দ্রুত। সবার স্বার্থে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতার প্রয়োজন বলে মনে করছি।

n লেখক :শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়