ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, এত স্বল্প সময়ে এমন একটি চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণার মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা বিশ্বে বিরল। এটা সন্ত্রাসীদের জন্য একটি বার্তা। বহির্বিশ্বে দেখা যায় এ সকল অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীরা গ্রেফতার না হয়ে নিহত হয়ে যায়। কাউন্টার টেরোরিজম তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রত্যেক অপরাধীকে খুঁজে বের করেছে। এটা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তথা বাংলাদেশ পুলিশের একটি বড়ো সাফল্য। গতকাল বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম হলি আর্টিজান মামলার রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
আসামির মাথায় আইএসের কথিত টুপির বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেছেন, জানা মতে, আইএসের কোনো টুপি নেই। আইএসের সৃষ্টি থেকে এ পর্যন্ত কোনো টুপি তারা তৈরি করেনি। তারপরও তাদের কোনো টুপি আছে কি না, তা বিশ্লেষণ করে দেখব। পাশাপাশি কারো গাফিলতির কারণে এরকম টুপি এজলাসে এসেছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি রাকিবুল হাসান রিগান ও জাহাঙ্গীর হোসেনের মাথায় আইএসের কথিত টুপি দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, কারাবেষ্টনির মধ্যে কীভাবে আসামিদের মাথায় এ ধরনের টুপি এলো?
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিদের হলি আর্টিজানে হামলা ছাড়াও আরো হামলার পরিকল্পনা ছিল। তারা আরো হামলার পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল। কাউন্টার টেরোরিজম ২০১৬ সালের জুলাইয়ে কল্যাণপুরে জীবিত এক আসামিকে গ্রেফতার করে হলি আর্টিজান মামলার ফাউন্ডেশন খুঁজে পায়। আগস্টে নারায়ণগঞ্জে জঙ্গিবিরোধী এক অভিযানে মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী নিহত হন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নব্য জেএমবির নেতৃত্বে আসা অনেকে নিহত এবং অনেককে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে রূপনগরের অভিযানে একজন মাস্টার ট্রেইনার নিহত হন।
তিনি আরো বলেন, হলি আর্টিজানে হামলার সঙ্গে জড়িত ২১ জনের মধ্যে সরাসরি জড়িত পাঁচ জন ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হন আট জন। ছয় জনকে জীবিত গ্রেফতার করা হয় এবং পলাতক দুই জনসহ আট জনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়।