লবণের মতো গুজব ছড়িয়ে সারের বাজারেও যাতে কেউ অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আগেভাগেই সতর্কতামূলক অবস্থান নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ইউরিয়া সারের চাহিদা ও যোগানের একটি তথ্য প্রকাশ করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। তাতে দেখা গেছে, পিক সিজনে চাহিদার চেয়ে তিনগুণ সার শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিসিআইসির কাছে মজুত রয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এ ইস্যুটি উঠে আসে। এরপর এ বিষয়ে গতকালই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশদ তথ্য সম্বলিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনায় ঐ সভার আয়োজন করা হয়।
এ বিষয়ে শিল্প সচিব মো. আব্দুল হালিম ইত্তেফাককে বলেন, সার নিয়ে গতবার বা তার আগেরবারও সমস্যা হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি লবণ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে আমাদের কতো পরিশ্রম করাল। এ কারণে আজকের (বুধবার) সভায় এ বিষয়টি আলোচনায় আসে। তাই আমরা প্রকৃত তথ্যটি মানুষকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেছি। তিনি বলেন, শুধু ইউরিয়া সার নয়, অন্যান্য সারের মজুতও পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। তবে তিনি বলেন, ‘সার নিয়ে কোনো গুজবের আশঙ্কা আমরা করছি না।’
দেশব্যাপী পেঁয়াজের আকাশচুম্বী দামের পর গত সপ্তাহে হঠাত্ লবণের সংকট নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ক্রেতাদের একটি অংশ হুমড়ি খেয়ে লবণ কিনতে শুরু করলে কোনো কোনো এলাকায় দাম বাড়িয়ে দেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। তবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপে ঐ গুজব হালে পানি পায়নি।
শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বিসিআইসির কাছে ৯ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। এর বিপরীতে পিক সিজনে প্রতি মাসে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা মাত্র ৩ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসেবে মজুতের পরিমাণ চাহিদার তিনগুণ। এছাড়া, আমদানির মাধ্যমে আনা সারও পাইপলাইনে রয়েছে।
সভায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প যোগানের উত্স খুঁজে বের করারও নির্দেশনা দেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে এখনো কাজে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি।
সভায় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সভায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন ছাড়াও শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্প সচিব মো. আব্দুল হালিম ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।